প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কেরানীগঞ্জে বাবুলের মানবতার মেহমান খানা, বিনামূল্যে সবার জন্য ভোজ
শেখ ফরিদ ||
রান্নার আয়োজন দেখলে মনে হবে এটি কোন বিয়ে বাড়ির উৎস । তবে এটি কোন বিয়ে উৎসব নয়। প্রতি শুক্রবারের পরিচিত দৃশ্য এটি। শুক্রবার এলেই সকাল থেকে শুরু হয় রান্নার এই কর্মযজ্ঞ। খোলা আকাশের নিচে আনন্দ ঘন পরিবেশে পরিবারের সকল সদস্যরা একে অপরকে সহযোগিতা করে নিজেরাই রান্নার কাজ করে শত শত মানুষের জন্য। যেখানে বড় বড় পাতিলে রান্না হয় লোভনীয় সব খাবার। এক সপ্তাহে বিরিয়ানি হলে অন্য সপ্তাহে গোস্ত দিয়ে ভুনা খিচুড়ি, কোন সপ্তাহের রান্না হয় গোশত ও ভাত।সেই খাবার এর মেহমান খানার অংশগ্রহণ করেন কয়েক শতাধিক গরিব, দুস্থ, ছিন্নমূল মানুষসহ রিকশাচালক, দিনমজুর,ও আশপাশের এলাকায় ধনী গরীব সকল প্রতিবেশীরা। সারিবদ্ধ ভাবে একের পর এক লাইনে বসে শিশু থেকে কিশোর বৃদ্ধ থেকে যুবক সকলেই এক আনন্দঘন পরিবেশে লোভনীয় সে খাবার খাচ্ছেন এক সাথে। যেখানে নেই ধনী গরীব, উঁচু নিচুর কোন ভেদাভেদ। আছে হাসি খুশি ও আনন্দ। আছে একে অন্যকে সহযোগিতা করার মত উৎসাহ। স্থানীয়রা বলেন, বাবুল ভাইয়ের এই মেহমানখানায় যে কেউ শুক্রবারে আসলেই খেতে পারে, খাবারের তালিকায় রয়েছে গোস্ত বিরিয়ানি গোস্ত দিয়ে খিচুড়ি, ভাত মাছ সহ আরো অনেক কিছু। ছোট ছোট শিশু থেকে আমরা যারা বয়স্ক বৃদ্ধ সবাইকেই তিনি খাবার দেন ।৭০ বছরের বৃদ্ধ হামিদা বেগম বলেন, এখানে আসলেই প্রতি শুক্রবারে ভালো খাবার খাওয়া যায়, বাবুলের জন্য সব সময় দোয়া। গরিব মানুষ টাকার অভাবে আমরা যারা ভালো খাবার খেতে না পারি এখানে আসলেই বিনামূল্যে আমরা খেতে পারি। এই মেহমানখানার অতিথি সেলিম বলেন, রিকশাচালক দিনমজুর সবার জন্যই এখানে বিনামূল্যে মজাদার খাবার পরিবেশন করেন বাবুল ভাই। তার পরিবারের সকল সদস্যরা আমাদেরকে প্রতি শুক্রবারে দাওয়াত ছাড়াই খেতে দেন। মহান আল্লাহ তার এই উদ্যোগ আরও বড় করুক এমনটাই আমরা দোয়া করি। মাদ্রাসা পড়ুয়া ছোট্ট শিশু, ফাহিম বলেন, শুক্রবারে এলেই নামাজ পড়ে এখানে চলে আসি মজার মজার খাবার খেতে। গোস্ত দিয়ে প্রতি সপ্তাহে যে খাবারগুলো আমাদেরকে দেয় আমরা খুব মজা করে খাই আমাদের খুব খুশি লাগে আমরা আনন্দিত। মটর মেকানিক্স ও গরিবের মেহমানখানার পরিচালক বাবুল হোসেন বলেন, নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ দিয়ে গরিবের পাশে দাঁড়ানোর ব্যতিক্রমী এই মেহমানখানার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। স্ত্রী ও সন্তান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা আমার এই মেহমানখানা চলছে দীর্ঘ তিন বছর যাবত। তিনি আরও বলেন, মানুষের পাশে নিজে দাঁড়িয়ে অন্যকে এগিয়ে আশার আহ্বান জানিয়ে চোখের পানির ফেলে দেন বাবুল হোসেন। বলেন, এক সময় নিজের জীবনে অনাহারে কাটায়ে হয়েছিল তাই সেখান থেকেই গরিব অসহায় মানুষের জন্য দীর্ঘ তিন বছর যাবত এই বিনামূল্যের খাবার বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ যতদিন বেঁচে আছি চালিয়ে যাব। আমি পৃথিবীতে না থাকলেও আমার পরিবার এবং সন্তানরা এই মেহমানখানা চালাবে। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিলেই গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের জীবনে নেমে আসবে অনাবিল সুখ শান্তি ও আনন্দ এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। তাই বাবুলের মত সকলেই এগিয়ে আসুক মানবতার কল্যাণে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত