প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
কেরানীগঞ্জের আলোচিত আয়নালসহ ১৯৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, ১১ জনের অব্যাহতির আবেদন
আদালত প্রতিবেদক ||
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় আমজাদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হোসেনসহ ১৯৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে অন্তবর্তিকালীন প্রতিবেদন দাখিল করেছেন পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগ সুত্রে এতথ্য জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আবু ছায়েম মো. আব্দুর রহমান ১১ জনকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। মামলাটির ১১ জনের অব্যাহতি বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৬ মে তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের ভাই ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওইসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে বিমানবন্দর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার অন্তবর্তিকালীন অব্যাহতির আবেদনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. শাহ আলম খান, মো. ফরহাদ হোসেন, মো. দানেস বেপারী, রুবেল ভূইয়া, ইকবাল হোসাইন, আবুল কালাম আজাদ, শাহ কামাল চৌধুরী বাবলু, জুবায়ের রহমান, আল আমিন, মো. মিলন মিয়া এবং মাসুদুজ্জামান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আবু ছায়েম মো. আব্দুর রহমান ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলমান অবস্থায় ১১ জনকে মামলার দায় থেকে অন্তবর্তিকালীন অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই তদন্ত শেষে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। মামলাটির বাদী ইসমাইল হোসেন এবং তার আইনজীবী সেন্টু চন্দ্র সেনকে একধিকার মোবাইল ফোনে কল করেই পাওয়া যায়নি।মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কোটা সংস্কারের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০ টার সময় বিমানবন্দর থানাধীন ফ্লাই ওভার ব্রিজের নীচে মেইন রোড ফুটপাতের উপর হাজার হাজার ছাত্র জনতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে মিছিল করেছিল। সেই আন্দোলন দমনের জন্য আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমীকলীগ ও এর সহযোগী অন্যান্য সংগঠনের নেতা কর্মীগন সহ পুলিশ নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি, টিয়ার শেল, সাউন্ড বোমা, পেট্রোল বোমা ও অণ্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দমন-পীড়ন চালায়। এই মামলার বাদী সহ তার বড় ভাই ভিকটিম আমজাদ আলী বিমানবন্দর থানাধীন ফ্লাই ওভার ব্রিজের নীচে মেইন রোড ফুটপাতের উপর বরাবরের মত ভ্যানে করে ফলমূল বিক্রী করা অবস্থায় যৌক্তিক দাবীতে শান্তিপূর্ন মিছিলে অংশ গ্রহন করেছিলো। এজাহারনামীয় আসামিদের নির্দেশে সহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৫০/২০০ জন আসামিরা প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শান্তিপূর্ন মিছিলে আক্রমন চালায়। এরফলে ভিকটিম আমজাদ আলী এর নাভীর নিচে পেটের ডান পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুলি পিছন দিকে দিয়ে বের হয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয় এবং রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে আসামিদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাইনিজ, কুড়াল দিয়ে ভিকটিমের হাতে কোপ মারে ও সারা শরীরে আঘাত করে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই ইসলাম হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্য রয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, শাজাহান খান, লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, কামরুল ইসলাম, কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রাণ গোপাল দত্ত, খসরু চৌধুরী, এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সালমা চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরীসহ প্রমুখ। এই মামলায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. আয়নাল হোসেন ৪০ নং এজাহারনামীয় আসামি।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত