প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯
দুর্গাপূজায় বাঁধা: হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর
নরসিংদী প্রতিনিধি ||
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। নরসিংদীর রায়পুরায় পূজা মণ্ডপে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এর আগে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিতে ১১টি জেলায় ১৩টি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ। নরসিংহদী জেলা শহরের শ্রীশ্রী বিজয়াসঙ্গ দুর্গাপূজার সাতটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ৬ অক্টোবর (রবিবার) এ ঘটনা ঘটে। শহরের মধ্যকান্দা পাড়া এলাকায় বিজয়াসঙ্গ এই পূজার আয়োজক।হামলার আগে স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মসজিদ কমিটির একজন সদস্যদের নেতৃত্বে একদল মুসলিম এসে উদযাপন বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। তারা বলেন সন্ধ্যা ৬টার পর গান গেয়ে উদযাপন করা যাবে না। এই সময়ে আসর ও মাগরিবের নামাজ পড়েন। সংঘের সদস্য অতনু সাহা রায় জানান, এই আখড়ায় এবারই প্রথমবার তাঁরা দুর্গাপূজার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাত চারটা পর্যন্ত পাহারায় ছিলেন কয়েকজন। এরপর ভোরের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা দুর্গা প্রতিমাসহ মোট সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর করে চলে যায়।স্থানীয় হিন্দু লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর লোকদের দ্বারা প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। ভয়ে অনেকেই তাদের নাম প্রকাশ করতে চান না। তবে সাংবাদিকরা ভিবিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছে নরসিংদী হেফাজতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা শওকত হোসেন সরকার , জামায়াতে ইসলামের নেতা মোঃ ইব্রাহিম ভূঁইয়া , মাহফুজুল ভূঁইয়া, স্থানীয় মসজিদ কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান এবংমসজিদের ইমাম মাওলানা ওলিউল্লাহ এই ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন।রাতভর প্রতিমা পাহারায় থাকা গোপীনাথ সংঘের সদস্য অপু কান্তি রায় বলেন, রাত চারটা পর্যন্ত তাঁরা পাঁচজন মন্দির পাহারায় ছিলেন। বৃষ্টি নামার পর ভোরে ঘুমাতে যান। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, দুর্গা, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিকসহ সাতটি প্রতিমা ভাঙা। অপু কান্তি রায় বলেন, পূজা করতে দূরে যেতে হয় বলে এলাকায় প্রথমবারের মতো তাঁরা দুর্গাপূজার আয়োজন করছিলেন। এ ঘটনায় তাঁরা মুষড়ে পড়েছেন।পিংকী দেবনাথ বলেছেন,এই ঘটনা তাদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করেছিল। তবে সেই ভয় কাটিয়ে তারা আবার প্রতিমা তৈরি করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা পালা করে প্রতিমা পাহারা দিচ্ছেন যা তারা আগে কখনও করেননি।"গ্রামে আমাদের কারও মধ্যে কখনও দ্বন্দ্ব ছিল না। মন্দিরের জমি নিয়েও কোন বিরোধ নেই। এখানে পূজায় আমরা হিন্দু মুসলিম সবাই একসাথে আনন্দ করি। মুসলিমরা আমাদের পূজার করার জন্য সহযোগিতা করে। এমন পরিবেশে এই হামলার কারণ আমাদের জানা নেই।"গ্রামটিতে মসজিদ এবং মন্দিরের মাঝেও দূরত্ব বেশি নয়। সেখানে বসবাসকারী প্রায় দেড়শ হিন্দু পরিবার এবং চারশ'র মতো মুসলিম পরিবারের মধ্যে কখনও দ্বন্দ্ব হয়নি বলে স্থানীয় লোকজন বলেছেন।তবে স্থানীয় পুলিশ বলেছে, মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধ থেকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সাথে গ্রামটির মন্দির কমিটি একমত নয়।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত