প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি জোটের জয়, ভরাডুবি জামায়াত-এনসিপির
আদালত প্রতিবেদক ||
এশিয়ার সর্ববৃহৎ বার খ্যাত ঢাকা আইনজীবী সমিতির সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল ২৩ পদেই নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। তবে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) কোন পদে বিজয়ী হতে পারেননি। গতকাল শুক্রবার রাতে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ বারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ জোট করে নীল প্যানেলে নির্বাচন করে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি সবুজ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।বিএনপি জোট থেকে সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট। অন্যদিকে জামায়াত জোট থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন ২ হাজার ১৭৯ ভোট পেয়ে ফেল করেন। স্বতন্ত্র পদে মো ইউনুস আলী বিশ্বাস ১৪৬ ভোট পান। অন্যদিকে বিএনপি থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর জামায়াত থেকে এ পদে আবু বক্কর সিদ্দিক ১ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়ে ফেল করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে এ পদে মো শহিদুল্লাহ ৪২৪ ও বলাই চন্দ্র দেব ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন।এছাড়া বিএনপি জোট থেকে সিনিয়র সহসভাপতি পদে রেজাউল করিম চৌধুরী ৪ হাজার ৫০৮ ভোট, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ৪ হাজার ৪৩৩ ভোট, ট্রেজারার আনিসুজ্জামান আনিস ৩ হাজার ৯৪৭ ভোট, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুমিশ সওদাগার আ্যনি ৪ হাজার ৩৫৫ ভোট, সহসাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল ৩ হাজার ৬৯৯ ভোট, লাইব্রেরি সেক্রেটারি খন্দকার মাকসুদুল হাসান ৪ হাজার ৩২০ ভোট, কালচালার সেক্রেটারি মারজিয়া হিরা ৩ হাজার ৮৭৯ ভোট, অফিস সেক্রেটারি আফজাল হোসেন মৃধা ৩ হাজার ৯৪০ ভোট, স্পোর্টস সেক্রেটারি সোহেল খান ৪ হাজার ৯৪ ভোট, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি এ এইচ এম ফিরোজ ৪ হাজার ১৪৪ ভোট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম শফিক ৪ হাজার ৫৯৭ ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হয়েছেন।এছাড়া কার্যকরী সদস্য পদে বিএনপি জোট থেকে নির্বাচনে সর্বাধিক ৪ হাজার ৪২৩ ভোটে জয়ী হয়ে ফারজানা ইয়াসমিন প্রথম, নজরুল ইসলাম মামুন ৪ হাজার ৩০৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়, আদনান রহমান ৪ হাজার ২৭৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচিত বিএনপির বাকি সদস্যরা হলেন- সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশান ৪ হাজার ৯ ভোট, মামুন মিয়া ৩ হাজার ৯৫১ ভোট, নিজামউদ্দিন ৩ হাজার ৮৯৪ ভোট, সামিউল ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট, মোজাহিদুল ইসলাম সায়েম ৩ হাজার ৭৪০ ভোট, এ এইচ এম রেজাউনুল সৈয়দ রোমিও ৩ হাজার ৫০৪ ভোট ও শেখ শওকত হোসেন ৩ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।জামায়াত জোট থেকে নির্বাচন করে অন্য পদে হেরেছেন- সিনিয়র সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি লুতফর রহমান আজাদ, ট্রেজারার আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন, কালচালার সেক্রেটারি বিলকিস আক্তার, অফিস সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক, স্পোর্টস সেক্রেটারি বাবুল আক্তার বাবু, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি শাহাজাহান মোল্লা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ। সদস্য পদে দিলরুবা আক্তার, জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহম্মেদ,কাইয়ুম হোসেন নয়ন, মহসিন রেজা, ওমর ফারক, শাহ আলম, ইউনূস ও মোশারফ হোসেন।স্বতন্ত্র হিসেবে অন্যান্য পদে অনির্বাচিতরা হলেন, ট্রেজারার পদে রফিকুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ার আবুল হোসেন, কালচারাল সেক্রেটারি পদে ওলিদা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এদিকে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে এক বিজ্ঞপ্তি দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। তাদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো.বোরহান উদ্দিন বলেন, আমি মনে করি না নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকতে পারে। কারণ যখনই কেউ মনে করে খেলায় হেরে যাবে , তখনই বলে আজকে খেলার মাঠ ভেজা ছিল। তাই ফুটবল খেলতে পারিনি। শুধু এনসিপি না , যারা ভোট বর্জন করেছে, দেশকে অচলাবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, তারাই এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত