প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ইজারা কেন্দ্রিক এনসিপির ওপর হামলার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আওলাদ!
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
আসন্ন ঈদুল আজহার উপলক্ষ্যে কোরবানি পশুর হাট ইজারার টেন্ডারের সিডিউলকে কেনা কেন্দ্র করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি এবং এনসিপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনার সময় পেশাদার সাংবাদিকেরা ভিডিও ধারণ করায় বিএনপি নেতাকর্মীর নির্দেশে তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠেছে। সমকালের সাংবাদিক রায়হান, ৭১ টিভির সাংবাদিক টিটু, এনপিবির সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ সহ আরও কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিতসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও এসেছে।পেশাদার সাংবাদিকেরা দাবি করে বলেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জ তারানগর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ও তার সমর্থকদের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। ইতিমধ্যে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবিসহ হামলার ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কালো স্টেপের গেঞ্জি পরিহিত পোশাকে, সেখানে বিএনপির এই নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৩ মো) বেলা ২ টার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপি সমর্থকেরা এনসিপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা উপজেলা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। স্থানীয় ও পুলিশের ভাষ্যমতে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নের মিলিনিয়াম সিটিতে নবাবী হাটের সিডিউল কেনাকে কেন্দ্র করে উভয়ে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিন্তু মোবাইল চুরি প্রসঙ্গ উঠিয়ে সংঘর্ষটাকে ভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত বছরে মিলেনিয়াম সিটির হাটের ইজারা পান এনসিপির সমর্থকরা। এবারও এনসিপির পক্ষ থেকে টেন্ডার নেওয়ার জন্য সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা কেরানীগঞ্জ উপজেলায় আসেন। তবে কেরানীগঞ্জে হাটের টেন্ডার দেওয়ার আগেই বিভিন্ন হাটগুলো দখল করে নেন ক্ষমতাশীন দলের নেতাকর্মীরা। এনসিপির সদস্যদের কে উপজেলা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই বিএনপি'র পক্ষ থেকে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ এসেছে। ছাত্রদল পরিচয় দেওয়া ইসরাফিল ও রাকিব প্রথমে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা আহবায়ক আল আমিন মিরাজ, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক এবং ঢাকা জেলা আহ্বায়ক শেখ ফয়সাল, জাতীয় ছাত্র শক্তির দক্ষিণ থানার আহবায়ক রতন, নিজামুল , সাফায়েত, আরিয়ান ছাব্বির এই ঘটনায় হামলার শিকার হয় এবং আহত হন। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নেতারা এই সিডিউল ক্রয় করাকে বন্ধের জন্য এই হামলা চালিয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মো. আজাদ ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তবে কেউ এখন পর্যন্ত মামলা করতে আসেননি।কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওমর ফারুক ঢাকার কণ্ঠকে বলেন, ঘটনা শুনেছি, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উপজেলার সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় তদন্ত করতে সময় লাগবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে জানতে চেয়ে তারানগর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এখনে হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা। আমার মোবাইল চুরি হয়েছে থানায় জিডি করে বাসায় চলে এসেছি। সিডিউল ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত