প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
নতুন মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার, আটকে গেল কারামুক্তি
আদালত প্রতিবেদক ||
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককের বিরুদ্ধে সাতটি মামলায় জামিন বহাল থাকার পরে এবার যাত্রাবাড়ী থানার আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলো এখনই তার কারামুক্তি হচ্ছে না। এদিন খায়রুল হক আদালতে হাজির করা হয়। পরে বেলা সোয়া ১১ টার দিকে পুলিশ প্রহরায় তাকে হুইল চেয়ারে ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে বলেন, খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় দিয়েছেন। এজন্য শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কার হিসেবে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করেছিলেন। তবে এই পুরস্কার তার জন্য ছোট হয়েছে, আরও বড় হওয়া উচিত ছিল। এই মামলায় তদন্ত করতে অনেককে গ্রেপ্তার করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থনা করছি। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান, আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করেন। শুনানিতে মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে এমন কিছু নাই যেকারণে গ্রেপ্তার দেখানো যাবে। এই মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি নয়। এই মামলার ঘটনার সময় হচ্ছে সকাল ১১ টা। আবার আদাবর থানায় থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেই মামলায় ঘটনা হচ্ছে সকাল ১১ টা। একই সময়ে তো একজন ব্যক্তি দুই জায়গায় থাকতে পারেন না। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এর আগে, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়িতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী ওভারব্রীজের নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব। এরপর সকাল ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বোচ্ছাসেবকলীগের অস্ত্রধারীরা একসঙ্গে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়। গত ১৭ মে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ১৩ মে রিটটি করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত