প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
প্রিয় দলকে সমর্থন করলে কি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়?
শুভ, অনলাইন রিপোর্টার ||
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় কোনো আসর যখন সামনে আসে, তখন সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে এক অন্যরকম উন্মাদনা দেখা দেয়। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো, বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখা, কিংবা টিভির সামনে বসে সমস্বরে চিৎকার করে ওঠা—এসবই কি কেবল নিছক বিনোদন?সাম্প্রতিক গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট দলের বা বিষয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়া বা ‘ফ্যানডম’-এর অংশ হওয়া আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক দারুণ দাওয়াই হতে পারে। যেখানে আধুনিক বিশ্বে একাকীত্ব একটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে প্রিয় দলের প্রতি এই আবেগ ও ভালোবাসা আপনাকে কোনো বড় কিছুর অংশ হওয়ার অনুভূতি দেয় এবং জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে।একাকীত্ব দূর করতে ফ্যানডমবর্তমান বিশ্বে একাকীত্ব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ একাকীত্ব অনুভব করেন, তবে যারা কোনো নির্দিষ্ট দলের বা বিষয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত নন, তারা ভক্তদের তুলনায় বেশি একাকী বোধ করেন। প্রিয় দলকে সমর্থন করা মানুষের মধ্যে একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি বা ‘সেন্স অফ বিলংগিং’ তৈরি করে। এটি কেবল খেলা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বন্ধুদের টেক্সট পাঠানো, বাবা-মায়ের সাথে খেলার খোঁজ নেওয়া বা অন্যদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।গবেষকরা ফ্যানডমের এই প্রক্রিয়াকে ‘ফ্যান ফ্লাইহুইল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি একটি পজিটিভ ফিডব্যাক লুপের মতো কাজ করে। যখন আপনি আপনার প্রিয় দলের কার্যক্রমে অংশ নেন বা খেলা দেখেন, তখন আপনার সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ে। এই সামাজিক যোগাযোগ আপনাকে মানসিকভাবে আনন্দিত করে, যা আপনাকে পুনরায় ফ্যানডমের প্রতি উৎসাহিত করে। একবার এই চক্রটি শুরু হলে এটি ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক শক্তির জোগান দিতে থাকে।প্রিয় দলকে সমর্থন করার সুদূরপ্রসারী কিছু সুফল গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন:পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন: যারা একনিষ্ঠ ভক্ত, তাদের পারিবারিক বন্ধন অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দৃঢ় হয়।কর্মজীবন ও সম্পর্কে সন্তুষ্টি: ভক্তরা সাধারণত তাদের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন।সুখ ও কৃতজ্ঞতা: ভক্তদের মধ্যে সুখ এবং কৃতজ্ঞতাবোধ বেশি কাজ করে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি উদার হয়।শুধু খেলাধুলা নয়, সব ধরণের ফ্যানডমই কার্যকরমানসিক স্বাস্থ্যের এই উন্নতি কেবল খেলাধুলার ভক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি যদি গান, কমিক্স, ভিডিও গেমস কিংবা কসপ্লের ভক্ত হন, তবে আপনিও একই ধরণের মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। তবে আমাদের সমাজে খেলাধুলার ভক্ত হওয়া যতটা সহজভাবে গ্রহণ করা হয়, অন্যান্য ফ্যানডম হয়তো এখনো ততটা সামাজিক স্বীকৃতি পায়নি। তাসত্ত্বেও, কোনো একটি গোষ্ঠীর অংশ হওয়া আপনাকে একাকীত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়ে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত