প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
'আমার সন্তানটা তার মাকে হারিয়ে, তাকে এখন সাপোর্ট দেওয়া দরকার'_আদালতে আলভী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আমি (আলভী) এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি, স্ত্রীর শোক পালন করবো নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমি কাজে (অভিনয়ে) ফেরার জন্য জামিন চাচ্ছি না। আমার সন্তানটা তার মাকে হারিয়ে, তাকে এখন সাপোর্ট দেওয়া দরকার। গতকাল বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পল্লবী থানায় করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভীর রিমান্ড বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়৷ রিমান্ড শুনানিকালে আদালতকে উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বেলা ২ টা ১০ মিনিটে আলভীকে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। বেলা আড়াইটায় দিকে এই মামলায় শুনানি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ভিকটিম ইকরা জানতে পারেন আলভী পরকীয়াশ সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আসামি ভিকটিমকে বলে আসছেন, "তুই মরে যা, তুই মরলে আমার কিছুই যায় আসে না"। এরকম নানান ভাবে মানসিকভাবে ভিকটিমকে আসামি নির্যাতন করে আসছিল। সর্বশেষ সামজিক যোগাযোগ মধ্যে একটি পরনারীর ছবি দিয়ে উস্কানিমূল পোষ্ট দেন। ভিকটিম সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, ইকবার মৃত্যুর পেছনে আসামির হাত থাকতে পারে। আলভীর কো-আর্টিস্ট তিথি নিজের হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা আলভীর নামসহ ফেসবুক পোষ্ট করেন। ভিকটিমের বিবাহ বার্ষিকীর দিনে আসামি অন্য মেয়ের সঙ্গে নেপাল ঘুরতে যান। কো-আর্টিস্টের হাতের এই লেখা কখনো মেনে নিতে পারেননি৷ একারণে এই পথ বেঁচে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি। রিমান্ড শুনানি চলাকালে সময়ে আলভী আদালতকে কিছু বলতে চাওয়ার অনুমতি চাইলে আদালত বলেন, "একটু পর আসবো আপনার কাছে"।এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানিতে বলেন, এই মামলায় কোনো মিডিয়া ট্রায়ালের ইন্ফুলুয়েন্স যে নো না থাকে । এখানে তাকে (আলভীকে) শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ন্যায় বিচার হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবী বলেন, তিনি দেশে এসে আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তখন বিচারক এ আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "তাকে হাইকোর্টই আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন" আইনজীবী তখন আদালতকে ইকরার দেওয়া একটি হলফনামা পরে শুনান। হলফনামায় ইকরাকে তার বাবা মা জোর করে আরেকটি বিয়ে দেন বলে লেখা আছে জানান এই আইনজীবী। এসময় আলভীর পক্ষের আরেক আইনজীবী তাকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।আদালতের অনুমতি নিয়ে জাহের আলভী বলেন, মাননীয় আদালত আমি এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি, স্তীট শোক পালন করবো নাকি, এখন মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমার এবং ইকরার রিলেশন খুব স্মুথ ছিল। সুইসাইড করার মত কিছু ঘটেনি। সংসার জীবমে ছোটোখাট মনমালিন্য হয়। আমি মিডিয়ায় কাজ করি এখানে আমার শুভাকাঙ্খী আছে যেমন হেটার্স ও আছে। তারা একটা এআই জেনারেটেড মেহেদী ওয়ালা ছবি দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করেছে। সেই মেহেদীওয়ালা আসল ছবিটা আমার আইনজীবীর কাছে আছে। তিথির সাথে নেপালে গিয়ে জন্মদিনের কেক কাটা প্রসঙ্গে আলভী বলেন, আমি নাকি নায়িকা নিয়ে নেপালে গেছি। অথচ আমি ৬ টা নাটকের শুটিংয়ে প্রডাকশনের সাথে গেছি। এটা আমার কাজ। সেখানে প্রডাকশনের সবাই ছিল শুধু তিথি না। আমি ন্যায় বিচার চায়। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে একাধিকবার উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজিত পরিবেশ তৈরি হলে বিচারক শান্ত করেন।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত