প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
রাশিয়ার ক্যানসার ভ্যাকসিনে আশার আলো, প্রথম রোগীর ইতিবাচক ফল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
রাশিয়ায় তৈরি ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার জন্য উদ্ভাবিত প্রথম ব্যক্তিগতকৃত (পার্সোনালাইজড) ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকরা।রুশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানিয়েছেন, ‘নিওনকোভ্যাক’ নামের এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে তৈরি দুটি ব্যক্তিগতকৃত ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর একটি হলো উন্নত পর্যায়ের (অ্যাডভান্সড) মেলানোমার জন্য এমআরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং অন্যটি কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’।গত এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে প্রথমবারের মতো ‘নিওনকোভ্যাক’ প্রয়োগ করা হয়।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলেকজান্ডার গিনজবার্গ জানান, রোগী বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, রোগীর শরীর টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সক্রিয় রোগপ্রতিরোধ উপাদান তৈরি করছে।তিনি জানান, ওই রোগীকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াজুড়ে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।এ ছাড়া বর্তমানে আরও ১০ জন রোগীর জন্য ব্যক্তিগতকৃত মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োগ করা হতে পারে।ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রে কাপরিন বলেন, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে। কেবল রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এটি শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য প্রশিক্ষিত করে।এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীভেদে আলাদা করে ব্যক্তিগতকৃত ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।এদিকে, রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাশাপাশি গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত