প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
বন্দিদের সুবিধার কথা বলে বিকাশে টাকা, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অভিযোগ
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি ||
বন্দিদের কারাগারে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া কিংবা অসুস্থ হলে হাসপাতালে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েকজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। টাকা পাঠানোর পরও প্রতিশ্রুত সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক বন্দির স্বজন।
রোববার (৯ আগস্ট) ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা সহজ করা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, অসুস্থ বন্দিকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কারাগারের ভেতরে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে স্বজনদের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠাতে বলা হয়। পরে টাকা দেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কারাগারের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, কিছু কারারক্ষী এবং তাদের স্বজনদের নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবা নম্বরে নিয়মিত অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে এসব লেনদেনের মাধ্যমে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের কোহিনূর বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে শাহাজামান কারাগারে অসুস্থ—এমন কথা বলে সালমান নামে এক কারারক্ষী তাকে পাঁচ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলেন। টাকা পাঠানোর পর কারাগারে গিয়ে ছেলের সঙ্গে দেখা করা কিংবা তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি তিনি। পরে ওই কারারক্ষী আবারও ফোন করে টাকা চাইতেন বলে অভিযোগ করেন কোহিনূর।
টাঙ্গাইলের সাদাত জানান, তার ভাই সফিকুল ইসলাম সামাদ গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে হাসপাতালে পাঠাতে হবে—এমন কথা বলে কারাগার থেকে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। তাকে বলা হয়, তার ভাই পদ্মার ২/৮ নম্বর কক্ষে আছেন। পরে কারাগার ও হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও ভাইয়ের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি। এরপরও তাকে বারবার বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে বলে দাবি করেন সাদাত।
দোহারের নিলয় নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, কারাগার থেকে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে তার ভাই গুরুতর অসুস্থ বলে জানান। হাসপাতালে রাখতে হলে বিকাশে টাকা পাঠাতে হবে বলা হলে তিনি টাকা পাঠান। পরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে আরও টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বন্দির স্বজন বলেন, কয়েক দফায় বিকাশে টাকা পাঠানোর পরও প্রতিশ্রুত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর আর কোনো সাড়া মেলেনি।
তিনি বলেন, ‘ভেতরে আমাদের স্বজন বন্দি। তাই ভয়েও কিছু বলতে পারি না। যদি আমাদের বন্দির কোনো ক্ষতি হয়। দু-একটা অভিযোগ সামনে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু আবার মোবাইলের মাধ্যমে টাকা নেওয়া শুরু হয়। সরকারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।’
এ ধরনের অভিযোগে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, কারাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ ও জেলার মাসুদ হাসান জুয়েলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. আশাদুল ইসলাম বলেন, ‘কারাগারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত