প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলের ৩৮ লাখ টাকা জরিমানা
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই অস্ট্রেলিয়া দলে এসেছে আরেক দুঃসংবাদ। ধীরগতির ওভার রেটের কারণে আইসিসির শাস্তির মুখে পড়তে পারেন প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন দলের ক্রিকেটাররা। চার ওভার কম বল করায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) চার পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।ডারউইনে রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়ে। চার দিনের ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় দিনের বোলিংয়ে নির্ধারিত ৯০ ওভারের মধ্যে তারা করতে পেরেছে ৮৬ ওভার। অর্থাৎ চার ওভার ঘাটতি ছিল।নিয়ম অনুযায়ী, সময়ের হিসাব ও অনুমোদিত ছাড় বিবেচনার পর কোনো দল নির্ধারিত ওভার রেটের চেয়ে পিছিয়ে থাকলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিসির নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ওভার কমের জন্য একটি করে পয়েন্ট কাটা হতে পারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি বছর বাংলাদেশের মিরপুর টেস্টেও একই নিয়মে আট ওভার কম করার কারণে ৪০ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা ও আটটি ডব্লিউটিসি পয়েন্ট কাটা হয়েছিল।অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি খেলোয়াড়ের টেস্ট ম্যাচ ফি ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার হলে চার ওভার ঘাটতির ক্ষেত্রে একজন ক্রিকেটারের জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ১১ ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে মোট জরিমানার অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ লাখ টাকার বেশি।তবে চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়ার আগে ম্যাচ রেফারি ডারউইনের আবহাওয়া, অতিরিক্ত গরম-আর্দ্রতা, ইনজুরি, উইকেট পতনসহ অনুমোদিত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করবেন। ফলে চার ওভারের পুরো ঘাটতির জন্যই অস্ট্রেলিয়াকে শাস্তি পেতে হবে—এটি এখনো নিশ্চিত নয়।এরই মধ্যে বাংলাদেশের কাছে হারের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ডব্লিউটিসি পয়েন্ট শতাংশও কমেছে। ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে, আর অস্ট্রেলিয়া ৭৭.৭৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতাও আলোচনায় এসেছে। প্রথম ইনিংসে তারা মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরির পরও অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ৫৭ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ এক উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায়।বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাটে-বলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ সব বিভাগেই তাদের ছাড়িয়ে গেছে।দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি হবে ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকে। সেখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ সমতায় ফেরার পাশাপাশি ডব্লিউটিসির শীর্ষস্থান ধরে রাখাই এখন অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত