প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে, প্রয়োজনীয় খাতে ছাড়: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার কণ্ঠ ডেস্ক ||
অপ্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় কমিয়ে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এনবিআর যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে।’ তিনি বলেন, যারা সৎ ও দক্ষ, তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চায় সরকার।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। রাজস্ব নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা বিভ্রান্তি দূর করাও সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এনবিআর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণের প্রভাব থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও মুক্ত থাকতে পারেনি।তিনি বলেন, নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এনবিআর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। এতে মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বর্তমান সরকার এনবিআরকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, করদাতারা যেন প্রতিষ্ঠানটিকে ভয় নয়, বরং বিশ্বাসের জায়গা হিসেবে দেখেন। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আস্থা তৈরি করা গেলে রাজস্ব আহরণও সহজ হবে। বৈদেশিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে অভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে।সরকারের উৎপাদনমুখী নীতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়লে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে। এর ফলে জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এসব ক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।এদিকে রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআরকে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে ভাগ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন পরিবর্তন এবং নতুন নতুন ব্যবসায়িক মডেলের কারণে রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত