প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সেই আকুতির পর মা ও নবজাতকের মৃত্যু
শুভ, সাব এডিটর ||
ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ২৫ বছর বয়সী এক নারী ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ওই নারীর কান্নাকাটি ও হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আকুতির একটি ভিডিও সামনে এসেছে। মৃত নারীর নাম কল্পনা মিশ্র। প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কল্পনা ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে কল্পনাকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে কান্না করতে এবং স্বজনদের কাছে যেতে চাইতে দেখা যায়। সেখানে তাকে চিকিৎসা চালিয়ে গেলে বাঁচবেন না এবং তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের কাছে আকুতি জানাতে শোনা যায়। ঘটনার পর কল্পনার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। তার বাবা দাবি করেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে চিকিৎসকদের জানানো হলেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর কল্পনার আর জ্ঞান ফেরেনি বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কল্পনা ও তার নবজাতকের মৃত্যুর পর স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের আলোচনা হয় এবং ময়নাতদন্তে সম্মতি দেওয়া হয়। ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা নার্সদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কল্পনার মৃত্যুর কারণ ও পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর কেন তার জ্ঞান ফেরেনি, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জনবল সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বড় একটি অংশের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
তবে কল্পনা ও তার নবজাতকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কারও দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত