প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ৭ বিমানবন্দর বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ে দেশটির বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাকার্তাসহ পশ্চিমাঞ্চলের সাতটি বিমানবন্দর সোমবারও বন্ধ ছিল। আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে হাজারো ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে এবং কয়েক লাখ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝের সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া গত শুক্রবার রাতে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এরপর আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তা, বান্তেন, পশ্চিম জাভা ও সুমাত্রার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ছাইয়ের স্তর আকাশে কয়েক কিলোমিটার ওপরে ওঠায় উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে আটটি বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছিল। পরে দক্ষিণ সুমাত্রার আতুং বুংসু বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়ায় সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ থাকে। এর মধ্যে জাকার্তার প্রধান সুকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিমান চলাচল কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তী হালনাগাদ হিসাবে এই সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছে।জাকার্তার সুকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিকল্প বিমানবন্দর হিসেবে সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি বিমানবন্দর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া যাত্রীদের জন্য সরকার বিনা মূল্যে বাস ও ট্রেন পরিবহনের ব্যবস্থাও করেছে।আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের প্রভাব শুধু বিমান চলাচলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাকার্তা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সরাসরি ক্লাসের পরিবর্তে অনলাইনে পাঠদান চালু করা হয়েছে। লাম্পুংসহ ছাই পড়া অন্যান্য এলাকাতেও মানুষকে বাইরে বের হলে সতর্ক থাকতে এবং মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে ছাই জাভার দিকে প্রায় ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রার দিকে ও বান্তেনের কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা। আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী কর্তৃপক্ষও আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা জানিয়েছে।অন্যদিকে, সুন্দা প্রণালিতে নৌযান চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরির চারপাশে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় নৌযান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্ন্যুৎপাত থেকে তাৎক্ষণিক সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।আনাক ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া আগ্নেয়গিরির গহ্বর থেকে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে এর একটি অংশ ধসে সৃষ্ট সুনামিতে ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হন। বর্তমানে আগ্নেয়গিরিটির কার্যক্রম কমলেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত