প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাসিনার নামে দেশে কত সম্পদ? কীভাবে হবে বাজেয়াপ্ত
শুভ, অনলাইন রিপোর্টার ||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের আদেশ কার্যকর করতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বণ্টনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কার্যপ্রণালি বা বিধি সংশোধনের কাজ শুরু করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাজেয়াপ্ত সম্পদ কীভাবে উদ্ধার, ব্যবস্থাপনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, কার্যপ্রণালি সংশোধন হয়ে গেলে আগের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি হলে শেখ হাসিনাসহ অন্য দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যাবে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এখন আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার নামে দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজের নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৫৫ লাখ টাকার এফডিআর এবং নগদ অর্থ হিসেবে প্রায় ২৮ হাজার টাকা দেখানো হয়। তিনটি গাড়ি, প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু এবং প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্রও সম্পদের তালিকায় ছিল।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমি থাকার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনার নামে একটি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমির কথাও হলফনামায় রয়েছে।
তবে হলফনামায় থাকা সম্পদের হিসাবই শেখ হাসিনার মোট সম্পদের চূড়ান্ত চিত্র নয়। তার নামে ঘোষিত সম্পদের বাইরে আরও সম্পদ রয়েছে কি না, তা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান ও সম্পদ অবরুদ্ধ করার কার্যক্রমও চলছে। আলাদাভাবে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সম্পদসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার মামলায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ ফ্রিজ করার তথ্যও জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।
চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধি চূড়ান্ত হলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের পথ পরিষ্কার হবে। এরপর আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত সম্পদের মূল্য বা সম্পদ ব্যবহার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত