প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুটি সামরিক হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এমন ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।তদন্তে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, স্কুলটি স্পষ্টতই বেসামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এমন প্রমাণ তারা পাননি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার আগে লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ করা হয়নি এবং ভবনটি সামরিক লক্ষ্য কি না, সেটিও পর্যাপ্তভাবে যাচাই করা হয়নি। তদন্ত মিশনের মতে, পরিস্থিতিকে শুধু সাধারণ অবহেলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ কারণেই হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া গেছে।এদিকে লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো হামলাও তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। সেখানে হামলার কারণে আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা ওই ঘটনাকেও একই ধরনের যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করেছেন।এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে মিনাবের স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছিল। মার্চে জাগো নিউজও মার্কিন সামরিক তদন্তের বরাতে জানিয়েছিল, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এবং এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল।অন্যদিকে, ইত্তেফাকের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হামলার ঘটনায় তদন্ত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ। পরবর্তী সময়ে শতাধিক মার্কিন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞও ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের কিছু কর্মকাণ্ডকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন।তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই পরিচালিত হয়। নতুন জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জেনেভা মিশন তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি।জাতিসংঘের একই তদন্তে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় বেআইনি হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচার আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের অভিযোগও উঠে এসেছে। তদন্ত মিশন এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত