প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস সংকটের মধ্যে সুখবর, তিতাস-বাখরাবাদের ৫ কূপে বাড়বে সরবরাহ
ঢাকার কণ্ঠ ডেস্ক ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একই সঙ্গে তিতাস ও বাখরাবাদের আরও কয়েকটি কূপের কাজ শেষ হলে আগামী কয়েক মাসে মোট প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের উন্নয়ন ও খননকাজ এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খনন শেষ হয়েছে এবং শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক জানান, নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে তুলনামূলক বেশি দামে আমদানি করা এলএনজির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে। তিতাসের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে পরবর্তী সময়ে দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলছে এবং এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।অন্যদিকে তিতাস-৩১ নম্বর কূপটি দেশের সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে খনন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কারিগরি বা ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ হতে পারে। সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খনন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার গভীরতার এ কূপটি সফল হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। সবগুলো সম্ভাব্য উৎপাদন যোগ করলে তিতাস-২৮সহ পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার হিসাব করছে বিজিএফসিএল।বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোর চাপ ও মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদনও আগের তুলনায় কমেছে। নতুন কূপগুলো চালু হলে তিতাসের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় সেখানে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, ওই এলাকায় আরও প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে। তবে খনন ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ মজুত নিশ্চিত বলা যাবে না।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত