প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
চাল-ডিমের পর মাছ-মুরগিতেও বাড়তি চাপ, বাজারে গিয়ে হিমশিম ক্রেতারা
ঢাকার কণ্ঠ ডেস্ক ||
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে চাল ও ডিমের দাম বেড়েছে। কোনো কোনো বাজারে মুরগির দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। মাছের বাজারেও চড়া দাম বিরাজ করছে। তবে সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাওয়া চিত্র এবং গণমাধ্যমের বাজার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।চালের বাজারে দেখা গেছে, মোটা ও মাঝারি চালের তুলনায় সরু চালের দাম বেশি বেড়েছে। ২৮-পাইজাম চালের কেজি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের দামও বেড়েছে। বাজার ও ব্র্যান্ডভেদে এসব চালের কেজি ৭০ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে টিবিএসের বাজার প্রতিবেদনে সরু চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধির তথ্য এসেছে। ব্যবসায়ীরা ধানের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়াকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।ডিমের দামও ক্রেতাদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বাজারে লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের ডজন প্রায় ১৮০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় লাল ডিমের ডজনে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ডিমের উৎপাদন খরচ ও খামারিদের পরিস্থিতি নিয়েও শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও জাগো নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।মুরগির দাম নিয়ে বাজারভেদে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। দেওয়া বাজারতথ্য অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে টিবিএসের প্রতিবেদনে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগির দাম ৩১০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাজার ও বিক্রেতাভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে বলে বোঝা যায়।মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। আকার ও ধরন অনুযায়ী রুই ও কাতলা মাছ কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৬০০ টাকা, কৈ মাছ ২৪০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের দামও তুলনামূলক বেশি। ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতারা।অন্যদিকে, সবজির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, পেঁপে কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা, ধুন্দল, কাঁকরোল, মুলা, বরবটি ও কয়েক ধরনের সবজির কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। পটল ও ঢেঁড়সের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং আলু ও মিষ্টিকুমড়া ২৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও মানভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে।নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, চাল, ডিম ও মাছ-মুরগির মতো প্রয়োজনীয় খাবার কিনতেই সংসারের বড় অংশের টাকা ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, বিক্রেতাদের কেউ কেউ পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ খরচ বৃদ্ধিকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে একই কারণ কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।এ পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজরদারি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত