প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেপ্তার ৭, পাঁচজনই সরকারি কর্মচারী
ঢাকার কণ্ঠ ডেস্ক ||
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী রয়েছেন।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছিল।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান সুজন, এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ এবং এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে।এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও বার্তা পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ছড়ানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোরে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়।প্রাথমিক তদন্তে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ব্যাংকের চেকসংক্রান্ত নথি, সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি। গ্রেপ্তারদের কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত দল। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ ও আইডি যাচাই করা হচ্ছে।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার সরাসরি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত