প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
নিখোঁজের দিন তাহসিফের বাসার নিচে দ্বীপ, ফুটেজে মিলল দৃশ্য
ঢাকার কণ্ঠ ডেস্ক ||
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন তাঁর বাসার নিচে বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে দেখা করেন। বাসার নিচতলার গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর ফুটেজটি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের দিকে দ্বীপ তাহসিফের বাসার নিচতলার গ্যারেজে আসেন। সেখানে তাঁকে মোটরসাইকেলে হেলমেট রাখতে এবং পোশাক দিয়ে মুখ মুছতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নামেন। এ সময় দুজনকে কথা বলতে দেখা যায়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটের দিকে তাঁদের আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে চলে যেতে দেখা যায় বলে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে আসার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাঁর ছেলে। যাওয়ার আগে মাকে জানিয়েছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।তাহসিফের সঙ্গে কাটানো সময়ের বর্ণনা দিয়ে দ্বীপ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি নষ্ট হয়ে পড়েছিল। দুজনের মোটরসাইকেলের মডেল একই হওয়ায় তিনি সেটি চালু করতে সাহায্য করেন। পরে তাঁরা উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কিছু কাজ করানো হয়।দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের কাজ শেষে তাঁরা আবার বাসার এলাকায় ফিরে আসেন। পরে রাজি কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর দ্বীপ নিজের বাসার দিকে চলে যান, আর তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। তবে তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন বা কী কাজে বের হয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।দ্বীপ আরও জানান, তাহসিফের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার সঠিক সময় মনে নেই। তবে তাঁর ধারণা, রাত ৯টার দিকে তাঁদের দেখা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তিনি নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সব মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন বলে জানান তিনি।তাহসিফের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে দ্বীপ বলেন, বয়সে বড় হওয়ায় তাঁকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে, তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।তাহসিফের সঙ্গে শেষবার যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বক্তব্য এবং ঘটনার আগের ও পরের পরিস্থিতি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শুধু সিসিটিভি ফুটেজ বা কারও বক্তব্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও দায় নিশ্চিত করা যায় না। তদন্তের ফলাফল ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত