প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সন্তানের স্বপ্ন ছিল, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হারালেন স্ত্রীসহ ১২ স্বজন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইরানের রাজধানী তেহরানে আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জাই। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদ্দেসেহকে হারান তিনি। নতুন সংসারে সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু গত ৯ মার্চের হামলায় মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাঁদের সেই স্বপ্ন।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আলজাজিরায় প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক এক লেখায় হামেদ জানান, হামলার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের স্মৃতি খুঁজে বেড়ান। তাঁর ভাষায়, ‘আমার জীবনটা এখানেই চাপা পড়ে আছে।’হামেদের বর্ণনা অনুযায়ী, ৯ মার্চ দুপুরে কাজের খোঁজখবর নিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। দুপুর আড়াইটার দিকে স্ত্রী তাঁকে মাথাব্যথার ওষুধ কিনে আনতে বার্তা পাঠান। ওষুধের নাম জানতে ফোন করলেও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বাড়িতে অতিথি আসার কথা থাকায় অতিথির ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু সেটিও ব্যস্ত পান।বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে থাকতেই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের শব্দ শুনতে পান হামেদ। বিস্ফোরণের পর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ফোন করেও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পান, ভবনটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। পরে উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের জীবিত পাওয়া যায়নি।হামেদ জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর স্ত্রী, বাবা-মা, দাদা-দাদি, বোনের স্বামীসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য ছিলেন। হামলার পর টানা ২০ দিন ধ্বংসস্তূপে স্বজনদের খুঁজেছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের কাউকেই ফিরে পাননি।একসময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতেন হামেদ। এখন তিনি পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য। প্রতিদিন ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িটিতে ফিরে যান। যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে তাঁর এই বর্ণনায় উঠে এসেছে, একটি হামলা কীভাবে একটি পরিবারের বহু প্রজন্মের জীবন ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে।
প্রকাশক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ
কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত