ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, দেশটির শত্রুরা ইরানকে বিদেশি আধিপত্যের পুরোনো অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার যে চেষ্টা করছে, তা সফল হবে না। দক্ষিণ ইরানের জলসীমা থেকে বিদেশি বাহিনীকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শিগগিরই আরব সাগর থেকেও তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স উইক’ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব কথা বলেন খামেনি। একই বার্তায় ২০২৪ সালে নিহত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকীর কথাও উল্লেখ করা হয়। খামেনি বলেন, একসময় দক্ষিণ ইরানের দুই সাগর বিদেশি বাহিনীর জন্য নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের মতো ছিল। তবে ইরানি যোদ্ধা ও হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের ‘বেদনাদায়ক আঘাতের’ পর শত্রু বাহিনী আরব সাগরের ওপারে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, শত্রুরা যখনই এমন ঝুঁকি নিয়েছে, তখন তাদের নিজেদেরই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আরব সাগর থেকেও তাদের উপস্থিতি দূর করার সময় ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। বার্তায় ইরানের বর্তমান অবস্থাকে স্বাধীনতা ও অগ্রগতির সময় হিসেবে বর্ণনা করেন খামেনি। বিপরীতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কে তিনি বিদেশি প্রভাব ও নির্ভরতার সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর বিদেশি শক্তির প্রভাবের অবসান ঘটে। এদিকে তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক চাপ কমানো ও অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তের কথা জানিয়েছিল।