জিপিএ-৫ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয় মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের মধ্যে এবার ১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফরিদা খানম বলেন, শুধু মেধাবী হয়ে বিদেশে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়লেই হবে না। বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা কাজের সুযোগ পেলেও অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পরামর্শ দেন তিনি।কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, জিপিএ-৫ জীবনের শেষ গন্তব্য নয়; এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এখন থেকেই আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে হবে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত বাংলাদেশি ড. এফ আর খান, জাওয়েদ করিম, সালমান খান, ড. আতাউল করিম, ড. জাহিদ হাসান ও তাহমিমা আনামের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাদের মতো শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে নতুন সাফল্যের গল্প তৈরি করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।দেশের প্রযুক্তি ও শিল্প খাত নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা জানান ফরিদা খানম। তিনি বলেন, তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে ছুটলে হবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একইভাবে বিদেশি প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে নিজেদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তৈরি করতে হবে। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বিশ্ব বাংলাদেশি মেধাবীদের পাশাপাশি বাংলাদেশে তৈরি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডকেও চিনবে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে দেশের পণ্য ও প্রতিষ্ঠান যেন আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারে, সে লক্ষ্যেও তরুণদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার মো. ইসরাফিল জাহান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।