ঢাকার কণ্ঠ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ০৭:০৫ মিনিট

এক পা হারানো অসহায় নার্গিসের পাশে ডিসি ফরিদা

এক পা হারানো অসহায় নার্গিসের পাশে ডিসি ফরিদা

একসময় রান্নার কাজ করেই নিজের জীবিকা নির্বাহ করতেন নার্গিস আক্তার লিজ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যে আয় হতো, তা দিয়েই চলত তাঁর জীবন। কিন্তু প্রায় নয় মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের জটিলতায় তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর বন্ধ হয়ে যায় কাজ ও আয়ের পথ। স্বামী-সন্তানহীন নার্গিস উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এ উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন নার্গিস। তবে ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় নয় মাস আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আর কাজে ফিরতে পারেননি তিনি। ফলে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা না থাকায় উত্তর বাড্ডার একটি ঘরেই একাকী দিন কাটছিল তাঁর। এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম তাঁর জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়াই নয়, দীর্ঘমেয়াদে তাঁকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে তাঁর চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ। নার্গিস যাতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই আয় করতে পারেন, সে জন্য তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় নিজের শ্রমে জীবিকা চালানো এই নারী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া জীবন আবারও গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

একটি হুইলচেয়ার, কিছু আর্থিক সহায়তা কিংবা একটি মুদি দোকান—এসব সহায়তার আকার হয়তো ছোট মনে হতে পারে। তবে নার্গিসের মতো একজন মানুষের জন্য এগুলো হতে পারে স্বনির্ভর জীবনে ফেরার নতুন পথ।

বিষয় : ডিসি ফরিদা খানম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এক পা হারানো অসহায় নার্গিসের পাশে ডিসি ফরিদা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

একসময় রান্নার কাজ করেই নিজের জীবিকা নির্বাহ করতেন নার্গিস আক্তার লিজ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যে আয় হতো, তা দিয়েই চলত তাঁর জীবন। কিন্তু প্রায় নয় মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের জটিলতায় তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর বন্ধ হয়ে যায় কাজ ও আয়ের পথ। স্বামী-সন্তানহীন নার্গিস উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এ উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন নার্গিস। তবে ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় নয় মাস আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আর কাজে ফিরতে পারেননি তিনি। ফলে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা না থাকায় উত্তর বাড্ডার একটি ঘরেই একাকী দিন কাটছিল তাঁর। এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম তাঁর জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়াই নয়, দীর্ঘমেয়াদে তাঁকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে তাঁর চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ। নার্গিস যাতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই আয় করতে পারেন, সে জন্য তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় নিজের শ্রমে জীবিকা চালানো এই নারী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া জীবন আবারও গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

একটি হুইলচেয়ার, কিছু আর্থিক সহায়তা কিংবা একটি মুদি দোকান—এসব সহায়তার আকার হয়তো ছোট মনে হতে পারে। তবে নার্গিসের মতো একজন মানুষের জন্য এগুলো হতে পারে স্বনির্ভর জীবনে ফেরার নতুন পথ।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত