এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগের কথা জানিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। নতুন সুযোগ কার্যকর হলে তাদের দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা না করেই অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে সাধারণত পরবর্তী বছরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলো অথবা চাইলে সব বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে পারেন।তবে এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন পিছিয়ে যায়। পাশাপাশি তৈরি হয় বাড়তি মানসিক চাপ। নতুন উদ্যোগের ফলে এ সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
সারাদেশ
পাবনা সদর উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকার সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে।মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু জানান, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েকজন একটি পলিথিনের তৈরি মাচাং ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা কিশোর ও তরুণ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।আহত তিনজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
পাবনার আতাইকুলায় হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির দুই নেতা নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার বিস্তারিত, নিহতদের পরিচয় এবং গোলাগুলির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।বিস্তারিত আসছে…
রাজবাড়ী জেলা শহরের পান্না চত্বর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বানিবহ বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন লিটন (৩৫)।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।আমির হোসেন লিটন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আবুল হাশেম।আহত লিটনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রিকশায় করে রাজবাড়ীর কাপড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পান্না চত্বর পার হওয়ার পর একটি অটোরিকশা তাঁদের রিকশাকে অতিক্রম করে। ওই অটোরিকশায় থাকা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রথম গুলিতে আহত হওয়ার পর সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও গুলি করা হয়।লিটন অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মধ্যে সালেহ আহমেদ সুজন ও ইনসান নামের দুজন ছিলেন। তাঁদের একজনের মুখে মাস্ক পরা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।আমির হোসেন লিটন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ সংগ্রহ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এর আগে সালেহ আহমেদ সুজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভাবের কারণে যেন ঝরে না পড়ে শিক্ষাজীবন, পূরণ হয় স্বপ্ন এমন প্রত্যাশা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতায় প্রায় দুই বছরের স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি ও নিবন্ধন ফি বকেয়া পড়ে যাওয়ায় তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন সচল রাখতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ) ফাউন্ডেশন।গাজীপুরের পাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুভর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস তার বাবার পরিশ্রম। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি স্থানীয় ডেইরি ফার্ম থেকে দুধ কিনে বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেও সংসারের খরচ জোগান। সীমিত আয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোর পর ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন শুভ। গত চার বছর ধরে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পেয়ে আসছেন তিনি। এই অর্থ তার শিক্ষার ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।তবে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়। শিক্ষাবৃত্তির টাকা দিয়ে কোচিংয়ের মাসিক বেতন পরিশোধ করলেও স্কুলের জমে থাকা বকেয়া, পরীক্ষার ফি ও এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফি দেওয়ার মতো অর্থ পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।শুভর এই সংকটের কথা জানতে পেরে তার শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে এগিয়ে আসে এবিজি ফাউন্ডেশন। গত রোববার গাজীপুর মহানগরের চাপুলিয়ায় অবস্থিত মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শুভর প্রায় দুই বছরের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি, এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন ফিসহ অন্যান্য বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুদান দেওয়া হয়।এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার, শিক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ ও তার মা নাছিমা বেগমের হাতে এবিজি ফাউন্ডেশনের অনুদানের চেক তুলে দেন কালের কণ্ঠের স্টাফ ফটোসাংবাদিক লুৎফর রহমান।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। এই সহযোগিতার ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।এদিকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভর মা নাছিমা বেগম। তিনি এবিজি ফাউন্ডেশন ও বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।আর্থিক সংকটের কারণে যে শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এবিজি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় সেই বাধা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন শুভ। তার মতো অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ পড়াশোনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণেও আশার আলো দেখায়।
কক্সবাজারের বৃহত্তর মেরিন ড্রাইভ সড়কের পর্যটন ব্যবসার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিসোর্ট, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকসহ বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) উচ্ছেদ নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন তাঁরা।রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, সম্প্রতি টুপটুপ রিসোর্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।তাঁরা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে মেরিন ড্রাইভ সড়কে ব্যবসা-বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। কারণ, এ অঞ্চলের পর্যটন খাতের সঙ্গে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কর্মচারী, পরিবহনশ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন খাতে সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে। তাঁদের ভাষায়, “পর্যটন বাঁচলে কক্সবাজার বাঁচবে, আর কক্সবাজার বাঁচলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”লাইসেন্স ও অনুমোদন পেতে ভোগান্তির অভিযোগব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নতুন ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য সহজে পাওয়া যায় না। কোন ব্যবসার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন, সরকারি ফি কত এবং কত দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ব্যবসার জমিসহ অন্যান্য বিষয় বৈধ ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর কেন বৈধতা বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে? এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।তাঁরা আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা কর, ভ্যাট, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য প্রযোজ্য সরকারি রাজস্ব দিয়ে থাকেন। অথচ প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতার ঘাটতি রয়েছে।‘সহায়তা ডেস্ক’ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের দাবিপর্যটন ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে একটি বিশেষ ‘সহায়তা ডেস্ক’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই ডেস্ক থেকে একজন উদ্যোক্তা যেন এক জায়গায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সরকারি ফি ও নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারেন।পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সেবা এক ছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুরও দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।কউকের উচ্ছেদ নোটিশে আতঙ্কঅন্যদিকে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) পক্ষ থেকে আবাসিক হোটেল ও খাবার হোটেল উচ্ছেদের নোটিশ এবং তিন দিনের সময়সীমা দেওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।তাঁদের দাবি, হঠাৎ উচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক এলাকায় প্রায় ৫০০টি রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন ব্যবসায় যেকোনো ধরনের ধাক্কা শুধু মালিকদের নয়, বাবুর্চি, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভ্যানচালক ও বাজারের সরবরাহকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।তাই নতুন কোনো নিয়ম, নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বিধিনিষেধ কার্যকর করার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় সভা আয়োজনের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি সরকারি জরিপের মাধ্যমে পর্যটন খাতে নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষের সঠিক তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করে সংকটকালীন সময়ে তাঁদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ তৈরি করা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগই পারে মেরিন ড্রাইভের পর্যটন খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও টেকসই করতে।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তারকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আশিক (২৩), মো. আলমগীর হোসেন (৩৬) ও মো. অনিক (১৯)।এদিকে গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস্) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।রোববার (২৫ অক্টোবর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৩ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে আসামিরা। এ সময় ফ্ল্যাটে থাকা ডালিয়া আক্তার (৪৫) বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।পুলিশ জানায়, হত্যার পর আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলের পাশের সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মো. আশিক ও মো. আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদে মো. অনিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে চুরির উদ্দেশ্যে আসামিরা ডালিয়া আক্তারের বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় ডালিয়া তাদের দেখে ফেললে নিজেদের রক্ষা করতে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে আসামিরা পালিয়ে যায়।নিহত ডালিয়া আক্তার বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ২৪ অক্টোবর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।