ঢাকার কণ্ঠ
প্রকাশ : রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৪:৩৯ মিনিট

জুলাই অভ্যুত্থানে দুই হত্যা ও হত্যাচেষ্টা: হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

জুলাই অভ্যুত্থানে দুই হত্যা ও হত্যাচেষ্টা: হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা তিন মামলার তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযোগে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় মোট ৩০৩ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মামলার মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলায় ৪৩ জন, রায়হান আকন হত্যা মামলায় ৪৯ জন এবং অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসানের হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনটি অভিযোগপত্রেই শেখ হাসিনার নাম রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামও রয়েছে।

ইলিয়াস হত্যা মামলায় ৪৩ জন

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হন ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াস হোসেন। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৯ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ফারুক খান ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ১০২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্কেল আলী শেখ হাসিনাসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৬৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনার পাশাপাশি শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাদেক খানসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

রায়হান হত্যা মামলায় ৪৯ জন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডার ইউলুপ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বনশ্রী শাখার কর্মী রায়হান আকন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন বিকেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় রায়হানের বাবা কামাল হোসেন ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল শেখ হাসিনাসহ ২৩৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে বাড্ডা থানার এসআই সুমন মিয়া শেখ হাসিনাসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। বাকি ২৩৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ মামলাকে ঘিরে পরিবারের মধ্যেও ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। রায়হানের চাচাতো ভাই আরিফুল ইসলাম কামরুলের অভিযোগ, তাঁর চাচাকে ভুল বুঝিয়ে মামলা করানো হয়েছিল এবং মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রায়হানের বাবা এখন মামলা না চালানোর বিষয়ে আগ্রহী। অন্যদিকে, মামলার বাদী হিসেবে তাঁর বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মেহেদী হাসানের হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৪ জন

চাকরির সন্ধানে ভোলা থেকে ঢাকায় এসে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আহত হন অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসান। তাঁর করা হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এ মামলায় আলমাছ নামে একজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার ময়ূরভিলার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এ সময় মেহেদীর ডান বাহুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ ঘটনায় মামলা করেন।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই সেলিম উদ্দীন গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাদেক খানসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ন্যায়বিচার চান। তবে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিন মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা মানেই তাঁদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

বিষয় : জুলাই অভ্যুত্থান হত্যা ও হত্যাচেষ্টা অভিযোগপত্র

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


জুলাই অভ্যুত্থানে দুই হত্যা ও হত্যাচেষ্টা: হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা তিন মামলার তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযোগে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় মোট ৩০৩ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মামলার মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলায় ৪৩ জন, রায়হান আকন হত্যা মামলায় ৪৯ জন এবং অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসানের হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনটি অভিযোগপত্রেই শেখ হাসিনার নাম রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামও রয়েছে।

ইলিয়াস হত্যা মামলায় ৪৩ জন

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হন ইলেকট্রিশিয়ান ইলিয়াস হোসেন। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৯ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ফারুক খান ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ১০২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আক্কেল আলী শেখ হাসিনাসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ৬৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনার পাশাপাশি শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাদেক খানসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

রায়হান হত্যা মামলায় ৪৯ জন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডার ইউলুপ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বনশ্রী শাখার কর্মী রায়হান আকন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন বিকেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় রায়হানের বাবা কামাল হোসেন ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল শেখ হাসিনাসহ ২৩৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে বাড্ডা থানার এসআই সুমন মিয়া শেখ হাসিনাসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। বাকি ২৩৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ মামলাকে ঘিরে পরিবারের মধ্যেও ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। রায়হানের চাচাতো ভাই আরিফুল ইসলাম কামরুলের অভিযোগ, তাঁর চাচাকে ভুল বুঝিয়ে মামলা করানো হয়েছিল এবং মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রায়হানের বাবা এখন মামলা না চালানোর বিষয়ে আগ্রহী। অন্যদিকে, মামলার বাদী হিসেবে তাঁর বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মেহেদী হাসানের হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৪ জন

চাকরির সন্ধানে ভোলা থেকে ঢাকায় এসে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আহত হন অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসান। তাঁর করা হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এ মামলায় আলমাছ নামে একজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার ময়ূরভিলার সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এ সময় মেহেদীর ডান বাহুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ ঘটনায় মামলা করেন।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই সেলিম উদ্দীন গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাদেক খানসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ন্যায়বিচার চান। তবে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিন মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা মানেই তাঁদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত