ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তার (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলার কারণে তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির ভাড়াটে খুনি (কন্ট্রাক্ট কিলার) দিয়ে ঘটানো একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তরিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. অনিক (১৯), মো. আশিক (২৩) ও মো. আলমগীর হোসেন (৩৬)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তরিকুল ইসলাম জানায়, গত ২৩ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে আসামিরা। ওই সময় ফ্ল্যাটে একা থাকা ডালিয়া আক্তার বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। আসামিরা তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে এবং পরবর্তীতে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে আশিক ও আলমগীরকে এবং পরে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর নিহতের পরিবার বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, ডালিয়া আক্তারকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
নিহতের ভাই এসএম জামাল শিকদার ও মেয়ে লিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, কুয়েত প্রবাসী বিল্লাল নামে এক ব্যক্তি কন্ট্রাক্ট কিলার ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বিল্লালই এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড। চুরির ঘটনা সাজিয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিহত ডালিয়া আক্তার বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডটি কি নিছক চুরির উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিক খুন নাকি প্রবাসী কোনো শত্রুর জের ধরে সুপরিকল্পিত কিলিং মিশন রিমান্ডে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।
বিষয় : চুরি ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং' ডালিয়া হত্যা

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তার (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলার কারণে তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির ভাড়াটে খুনি (কন্ট্রাক্ট কিলার) দিয়ে ঘটানো একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তরিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. অনিক (১৯), মো. আশিক (২৩) ও মো. আলমগীর হোসেন (৩৬)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তরিকুল ইসলাম জানায়, গত ২৩ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে আসামিরা। ওই সময় ফ্ল্যাটে একা থাকা ডালিয়া আক্তার বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেন। আসামিরা তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে এবং পরবর্তীতে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে আশিক ও আলমগীরকে এবং পরে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল আলামত হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর নিহতের পরিবার বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, ডালিয়া আক্তারকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
নিহতের ভাই এসএম জামাল শিকদার ও মেয়ে লিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, কুয়েত প্রবাসী বিল্লাল নামে এক ব্যক্তি কন্ট্রাক্ট কিলার ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বিল্লালই এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড। চুরির ঘটনা সাজিয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিহত ডালিয়া আক্তার বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং চর বাঘাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডটি কি নিছক চুরির উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিক খুন নাকি প্রবাসী কোনো শত্রুর জের ধরে সুপরিকল্পিত কিলিং মিশন রিমান্ডে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন