সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দাবি ছড়িয়েছে প্রতিদিন ২২ মিনিট চুমু খেললে মানুষের আয়ু নাকি সাত বছর পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২২ মিনিট ও সাত বছরের এই নির্দিষ্ট হিসাবটি মূল গবেষণার দাবি নয়। এটি পরবর্তী সময়ে প্রচারিত একটি অতিরঞ্জিত সংস্করণ।
এই দাবির পেছনে জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো (Arthur Szabo)-কে ঘিরে একটি আশির দশকের গবেষণার কথা বলা হয়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, যেসব পুরুষ সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে বিদায়ী চুমু দিতেন, তারা চুমু না দেওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে পাঁচ বছর বেশি বাঁচতেন।
পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছর হয়েছে এবং সকালের বিদায়ী চুম্বনের বিষয়টি বদলে গিয়ে প্রতিদিন ২২ মিনিট চুমু খাওয়ার দাবিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ২২ মিনিট চুমু খেলেই সাত বছর আয়ু বাড়বে এমন সরাসরি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
আর্থার জাবোর গবেষণার দাবির ব্যাপারেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একটি পরবর্তী বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কথিত গবেষণাটি জার্মানির Selecta নামের একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়; তবে মূল গবেষণার স্বাধীন যাচাই বা পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ঘনিষ্ঠ ও ইতিবাচক সম্পর্ক মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন বৃহত্তর গবেষণা রয়েছে। তাই চুম্বনকে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু নির্দিষ্ট ২২ মিনিট চুমু = সাত বছর বেশি আয়ু এমন সূত্রকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
বিষয় : Arthur Szabo

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দাবি ছড়িয়েছে প্রতিদিন ২২ মিনিট চুমু খেললে মানুষের আয়ু নাকি সাত বছর পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২২ মিনিট ও সাত বছরের এই নির্দিষ্ট হিসাবটি মূল গবেষণার দাবি নয়। এটি পরবর্তী সময়ে প্রচারিত একটি অতিরঞ্জিত সংস্করণ।
এই দাবির পেছনে জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো (Arthur Szabo)-কে ঘিরে একটি আশির দশকের গবেষণার কথা বলা হয়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, যেসব পুরুষ সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে বিদায়ী চুমু দিতেন, তারা চুমু না দেওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে পাঁচ বছর বেশি বাঁচতেন।
পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছর হয়েছে এবং সকালের বিদায়ী চুম্বনের বিষয়টি বদলে গিয়ে প্রতিদিন ২২ মিনিট চুমু খাওয়ার দাবিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ২২ মিনিট চুমু খেলেই সাত বছর আয়ু বাড়বে এমন সরাসরি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
আর্থার জাবোর গবেষণার দাবির ব্যাপারেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। একটি পরবর্তী বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কথিত গবেষণাটি জার্মানির Selecta নামের একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়; তবে মূল গবেষণার স্বাধীন যাচাই বা পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ঘনিষ্ঠ ও ইতিবাচক সম্পর্ক মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন বৃহত্তর গবেষণা রয়েছে। তাই চুম্বনকে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু নির্দিষ্ট ২২ মিনিট চুমু = সাত বছর বেশি আয়ু এমন সূত্রকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

আপনার মতামত লিখুন