ঢাকার কণ্ঠ

সন্তান জন্মের আগেই ঝুঁকির সংকেত দেবে স্মার্ট রিং?

সন্তান জন্মের আগেই ঝুঁকির সংকেত দেবে স্মার্ট রিং?

গর্ভবতী নারীদের অকাল প্রসবের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে স্মার্ট রিং নিয়ে গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওউরা যৌথভাবে ‘প্রজেক্ট ক্র্যাডল’ নামে এ গবেষণা কর্মসূচি চালু করেছে।

২১ অক্টোবর ঘোষিত এ প্রকল্পের মেয়াদ ২৪ মাস। এতে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের গর্ভধারণের শুরুর দিক থেকে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে। গবেষণার লক্ষ্য হলো, প্রসবের আগে শরীরে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, যা স্মার্ট রিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা সম্ভব।

গবেষণায় ব্যবহৃত ওউরা রিং হৃদ্‌স্পন্দন, হৃদ্‌স্পন্দনের পরিবর্তনশীলতা, ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের মতো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। এসব তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত ও জিনগত তথ্য মিলিয়ে বিশ্লেষণ করবেন গবেষকেরা। এর মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত অকাল প্রসবের আগে শরীরে নির্ভরযোগ্য কোনো সংকেত পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আবুধাবির কর্নিশ হাসপাতাল ও মেডিক্লিনিক এয়ারপোর্ট রোডে গবেষণাটি পরিচালিত হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণার ফলাফল ২০২৮ সালে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে সন্তান জন্ম নিলে তাকে অকাল প্রসব বলা হয়। বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে প্রায় একটির জন্ম অকাল প্রসবের মাধ্যমে হয়। এ ধরনের জন্মের ক্ষেত্রে শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস, মস্তিষ্কের বিকাশসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার ঝুঁকি থাকতে পারে।

গবেষকেরা আশা করছেন, অকাল প্রসবের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হলে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরও সময় পাবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুর ফুসফুস ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া কিংবা মা ও শিশুকে বিশেষায়িত চিকিৎসাসুবিধা থাকা হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

তবে স্মার্ট রিংয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অকাল প্রসবের ঝুঁকি কতটা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তিটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সংকেত দিতে পারে কি না এবং সেই তথ্য চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লাগানো যাবে কি না, তা যাচাই করা হবে। গবেষণার ফলাফল ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার।

বিষয় : স্মার্ট রিং সন্তান জন্ম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ঢাকার কণ্ঠ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


সন্তান জন্মের আগেই ঝুঁকির সংকেত দেবে স্মার্ট রিং?

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গর্ভবতী নারীদের অকাল প্রসবের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতে স্মার্ট রিং নিয়ে গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওউরা যৌথভাবে ‘প্রজেক্ট ক্র্যাডল’ নামে এ গবেষণা কর্মসূচি চালু করেছে।

২১ অক্টোবর ঘোষিত এ প্রকল্পের মেয়াদ ২৪ মাস। এতে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের গর্ভধারণের শুরুর দিক থেকে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে। গবেষণার লক্ষ্য হলো, প্রসবের আগে শরীরে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, যা স্মার্ট রিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা সম্ভব।

গবেষণায় ব্যবহৃত ওউরা রিং হৃদ্‌স্পন্দন, হৃদ্‌স্পন্দনের পরিবর্তনশীলতা, ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের মতো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। এসব তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত ও জিনগত তথ্য মিলিয়ে বিশ্লেষণ করবেন গবেষকেরা। এর মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত অকাল প্রসবের আগে শরীরে নির্ভরযোগ্য কোনো সংকেত পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আবুধাবির কর্নিশ হাসপাতাল ও মেডিক্লিনিক এয়ারপোর্ট রোডে গবেষণাটি পরিচালিত হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণার ফলাফল ২০২৮ সালে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে সন্তান জন্ম নিলে তাকে অকাল প্রসব বলা হয়। বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে প্রায় একটির জন্ম অকাল প্রসবের মাধ্যমে হয়। এ ধরনের জন্মের ক্ষেত্রে শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস, মস্তিষ্কের বিকাশসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার ঝুঁকি থাকতে পারে।

গবেষকেরা আশা করছেন, অকাল প্রসবের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হলে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরও সময় পাবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুর ফুসফুস ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া কিংবা মা ও শিশুকে বিশেষায়িত চিকিৎসাসুবিধা থাকা হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

তবে স্মার্ট রিংয়ের তথ্যের ভিত্তিতে অকাল প্রসবের ঝুঁকি কতটা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তিটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সংকেত দিতে পারে কি না এবং সেই তথ্য চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লাগানো যাবে কি না, তা যাচাই করা হবে। গবেষণার ফলাফল ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার।


ঢাকার কণ্ঠ

সম্পাদক: লিটন মাহমুদ
প্রধান সম্পাদক: মো: আল-আমীন (পনির)
নির্বাহী সম্পাদক: শেখ ফরিদ

কপিরাইট © ২০২৫ ঢাকার কণ্ঠ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত