ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর ৩০ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন খলিলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সেলিম।শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবান ফ্যাক্টরি এলাকায় ইনসাবের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ইনসাব কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক তাওহিদুল ইসলাম। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাওহিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সভ্যতা গঠনে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। অথচ তারাই আজ অবহেলিত। ইনসাব এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে পারবে।”তিনি বলেন, “নবগঠিত কেরানীগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের সংগঠিত করতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যেতে হবে এবং তাদের অধিকার নিয়ে সমাজে কথা বলতে হবে।”শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অসচেতনতার কারণেই অধিকাংশ নির্মাণ শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হন। তাই সবার আগে শ্রমিকদের সেফটি ট্রেনিং নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের জন্য ‘সেফটি ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন জরুরি।”সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, “নির্মাণ শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হলেও তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাওয়া যায় না। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যেকোনো দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের পাশে থাকবো।”তিনি বলেন, “শ্রমিকদের অবহেলা করে মালিকপক্ষ অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়, যা আর মেনে নেওয়া হবে না। আগামী তিন মাসের মধ্যে ইউনিয়ন কমিটি সম্পন্ন করে শ্রমিকদের নিয়ে সভা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।”সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম বলেন, “আমাদের মূলনীতি হবে- ‘নো সেফটি, নো কাজ’। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমরা কাজ করবো। সরকার আমাদের শিল্প শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও এখনো অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”এ সময় নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, অসুস্থ শ্রমিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বৃদ্ধ বয়সে সহায়তার দাবি জানান।