ঢাকার কণ্ঠ

অর্থায়ন মিললেই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুরো করিডোরকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালু হলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর আগে চলতি বছরের জুনে সরকার দেশের প্রধান রেলপথগুলোতে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর নীতিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতেও নেওয়া হয়েছে আলাদা উদ্যোগ। ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান রুটের তুলনায় দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমতে পারে। ফলে ট্রেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি ভ্রমণের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সরকারের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশার কাজ শেষ হয়েছে। লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, আর টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাবও প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রেলপথের সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে করিডোরের অসম্পূর্ণ অংশগুলোকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলপথের অবকাঠামো উন্নত হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি পণ্য ও কনটেইনার পরিবহনও আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের বৃহত্তর রেল পরিকল্পনায় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনের পাশাপাশি উচ্চগতির রেল সংযোগ এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর কথাও রয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও সক্ষম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যেই এসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

অর্থায়ন মিললেই ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু