ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে ফ্ল্যাট থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, মারধর এবং ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগে বাড়ির মালিক আকবর আলীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।ভুক্তভোগী মো. বদরুজ্জামান দেওয়ান রনি বাদী হয়ে সোমবার (১১ মে) ঢাকার বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (কেরানীগঞ্জ আমলী) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে—মো. আকবর আলী, কাউছার, ইকবাল, আপন ও গোলেনুর আক্তার।মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মডেল টাউন এলাকায় বাড়ির মালিক আকবর আলীর কাছ থেকে প্রায় ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার চুক্তি করেন ঔষধ ব্যবসায়ী রনি। এর মধ্যে তিনি ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে বাকি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে গেলে অভিযুক্ত আকবর আলী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং দলিল বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ১০ মে আকবর আলী ও তার সহযোগীরা ফ্ল্যাটের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ঘরে থাকা প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা, নগদ ৫ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাদী ও তার স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।ভুক্তভোগী রনি অভিযোগ করেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাট খালি করা হয়েছে। তবে তারা এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।