ঢাকার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এবার মাঠে নেমেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন। দূষণমুক্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শুক্রবার সেকশন ব্রিজসংলগ্ন দূরানী খাল ও আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে শুরু হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো রূপ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয়রা।জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষায় ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।এবার চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে চ্যানেল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হলে চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি জনসাধারণের হাঁটা ও অবসর সময় কাটানোর জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা জরুরি। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগকে তিনি প্রশংসনীয় উল্লেখ করে কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি আবার দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে এবং স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও জলাবদ্ধতার ভোগান্তিও কমবে।