ঢাকার কণ্ঠ

হরমুজ খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, মধ্যস্থতায় কাতার-ওমান-পাকিস্তান

হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর বিষয়ে ইরানের অবস্থান জানতে চেয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতই শর্তের তালিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি।সম্প্রতি কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা করছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রীও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে উত্তেজনা কমানো ও নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।আলোচনায় হরমুজে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং মাইন অপসারণের যৌথ উদ্যোগের বিষয়টি এসেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যেও একটি শিপিং করিডোর নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।তবে প্রণালিটি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে।এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এলে কূটনীতির পথ আবারও উন্মুক্ত হতে পারে। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সমঝোতা করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই উন্মুক্ত এবং সেখান দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। তবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা নতুন করে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।তবে বাস্তবে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সাম্প্রতিক হিসাবে এক দিনে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৫টি।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের চাপ কমতে পারে। ইতোমধ্যে প্রণালিটি খোলার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে।

হরমুজ খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, মধ্যস্থতায় কাতার-ওমান-পাকিস্তান