ঢাকার কণ্ঠ

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে!

লোহার গরাদ, কঠোর নিরাপত্তা আর বন্দিজীবনের বাস্তবতার মধ্যেই গড়ে উঠল এক নতুন সম্পর্কের অধ্যায়। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আটক এক বন্দির সঙ্গে মামলার ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে আদালতের নির্দেশনায়।কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ মঙ্গলবার (১২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।কারা সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন এম. তরিকুল ইসলাম (২৬)। মামলার ভুক্তভোগী আসমা বেগমের (৩৫) সঙ্গে বিয়ের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারক আবেদন মঞ্জুর করলে কারাগারের ভেতরেই বিয়ের আয়োজন করা হয়।আদালতের নির্দেশনার পর সিনিয়র জেল সুপারের উপস্থিতিতে একজন কাজী ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। পরে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে তাদের বিয়ে পড়ানো হয়।কারাগারে এমন আয়োজন খুব কমই দেখা যায়। ফলে ঘটনাটি কারা কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপস্থিত সবার মধ্যেই কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়। ছিল না কোনো উৎসবের আয়োজন বা আত্মীয়-স্বজনের ভিড়, তবে ছিল নতুনভাবে জীবন শুরু করার এক নীরব প্রত্যাশা।কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে নিয়ম মেনেই রেজিস্ট্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ এটিকে মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বাধীন মতামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।কারাগারের সীমাবদ্ধ দেয়ালের মধ্যেও হওয়া এই বিয়ে তাই শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা ও মানবিক বাস্তবতার এক ভিন্ন প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে!