ঢাকার কণ্ঠ

কেরানীগঞ্জে পুলিশের সোর্স দ্বারা কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, থানায় মামলা

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাগর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক কিশোরীর মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জের কৈবর্ত্যপাড়া এলাকার ১২ ও ১৪ বছর বয়সী প্রতিবেশী দুই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তাদের একজনের মা থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর কিশোরী দুজন তাদের নানাবাড়িতে ফিরে এলে তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে পরিবার জানতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ বাজারের হারুন মিয়ার মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় সাগরের পরিচালিত একটি নাচের স্কুলে তাঁদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।পরিবারের খোঁজ পাওয়ার আশঙ্কায় সাগর ও লামিয়া তাঁদের রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের আটকে রেখে সাগরসহ আরও কয়েকজন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগ। একপর্যায়ে কিশোরী দুজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাঁদের ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরে কিশোরী দুজন বসুন্ধরা এলাকা থেকে কেরানীগঞ্জে ফেরার পথে সাগর তাঁদের আবারও ধরে নিয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কায় কদমতলী এলাকায় না নেমে বিক্রমপুরে তাঁদের নানাবাড়িতে চলে যান। সেখানে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাগর ও লামিয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগরের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।

কেরানীগঞ্জে পুলিশের সোর্স দ্বারা কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, থানায় মামলা