ফরিদপুরে পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে একটি মামলায় দুইজনকে সাজা দেওয়া হলেও অপর এক আসামি খালাস পেয়েছেন। অন্য মামলার আসামি রায় ঘোষণার সময় পলাতক ছিলেন। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ শামীমা পারভীন পৃথক মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন সুমন মোল্লা, উসমান বেপারী ও রাসেল মণ্ডল। প্রথম মামলায় সুমন মোল্লা ও উসমান বেপারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলার অপর আসামি রিয়াজ বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকায় যান। পরে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি আত্মীয় রিয়াজ বেপারীকে বিষয়টি জানান। এরপর তাকে ফরিদপুরে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে সুমন ও উসমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুমন ও উসমানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে, একই দিনে পৃথক একটি ধর্ষণ মামলায় রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাকেও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রতন বলেন, সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের সাজা দিয়েছেন।