জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনগুলোর একটি। তবে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে বড় ধরনের সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানান ট্রাম্প। বৈঠকের আগে দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে তাইওয়ান, ইরান যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বৈঠক শেষে ট্রাম্প দুই দেশের আলোচনায় বড় অগ্রগতির কথা বললেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বাণিজ্যিক বিরতির মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া বড় কোনো চুক্তি বা দৃশ্যমান সমঝোতার বিষয়টি সামনে আসেনি। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে শির ওয়াশিংটন সফরের অগ্রগতিকে ‘সামান্য’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতেও চীনের অবস্থান স্পষ্ট। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে অংশীদার হিসেবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। ইরান যুদ্ধও ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘে ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরলেও ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু মিত্রদেশের অবস্থানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। চীনও ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ কয়েকটি দেশের নেতারা আন্তর্জাতিক বিরোধে শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ট্রাম্পের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে মিত্র ও অন্যান্য দেশের অবস্থানের পার্থক্যও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সমাধান আসেনি বলে রয়টার্সের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কিছু সমঝোতা হলেও তা ট্রাম্পের আগের দাবিগুলোর তুলনায় সীমিত পরিসরের। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, ট্রাম্প প্রকাশ্য বক্তব্যের চেয়ে বাস্তব ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় অনেক সময় প্রকাশ্য অবস্থানের চেয়ে ভিন্ন ধরনের অগ্রগতি হয়।