ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নতুন হোল্ডিং কার্ড ইস্যুর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি পরিবার থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নজুড়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন হোল্ডিং কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে ৩০০ টাকা করে সংগ্রহ করছেন। অনেককে আবার বলা হচ্ছে, এই কার্ড না নিলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণে জটিলতা হতে পারে। এমন আশঙ্কা দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, একটি হোল্ডিং কার্ড প্রস্তুতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকার মতো ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু কোন নীতিমালা বা নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হোল্ডিং কার্ড বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রকাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজে গেলে সচিবের দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ করেন তারা।ওই এলাকায় বাসিন্দা গীতা রানী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসে বলা হয়েছে, হোল্ডিং কার্ড নিতে ৩০০ টাকা দিতে হবে। আবার বাড়ির খাজনা দিতে হবে ৮০০ টাকা। আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। এত টাকা একসঙ্গে কোথা থেকে দেব? কার্ডের জন্য অতিরিক্ত টাকা কেন নেওয়া হবে?সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের সরকারি ফি ও সেবার মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে টানিয়ে রাখা এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হলে এ ধরনের অনিয়ম কমবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানান তাঁরা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রকাশ চন্দ্র সরকার অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, এটা আমরা হোল্ডিং কার্ডের জন্য নিয়েছি। অফিসে আসেন, সরাসরি কথা বলব।”এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ অনিয়ম করে থাকলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।