চার দিনের ব্যবধানে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মিন্টু (৪৫) ও রানা (৩২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।শনিবার (১ আগস্ট) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকার একটি আগাছাপূর্ণ খালি প্লট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে ফুটবল খেলতে গিয়ে বল আনতে গিয়ে কয়েকজন ওই মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এর আগে ৩০ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সেখানে ফেলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।২৮ জুলাই ব্রাহ্মণকিত্তা এলাকার একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে তানজিলা নামে এক কিশোরীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে রানা (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।পিবিআই জানায়, তানজিলার সঙ্গে রানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক বিরোধ এবং ধার দেওয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে রানাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।একই দিন রাতে খোলামোড়া এলাকায় মমতাজ বেগম নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মিন্টু (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, মিন্টু কৌশলে ওই গৃহবধূকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশ্রিত পানীয় পান করান। এরপর তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ বিকৃত করে বাসার পাশেই ফেলে রাখা হয়।তদন্তের ভিত্তিতে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।এদিকে ২১ জুলাই রাতে একই এলাকার খোলামোড়ায় আলামিন নামে চার সন্তানের এক জনকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।