ঢাকার কণ্ঠ

কোরবানির মাংসের হাটে ভিড়, লজ্জায় মুখ ঢেকে কিনছে বিত্তবানরাও!

সারা বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় কোরবানি করছেন। কোরবানির পর পশুর গোশত বিতরণ চলছে দেশ-বিদেশে। তবে যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য বছরে একবার ঈদুল আজহাই বিনামূল্যে গোশত পাওয়ার বড় সুযোগ হয়ে আসে।সন্তানের মুখে এক টুকরো কোরবানির গোশত তুলে দিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ কেউ আবার একদিনের কসাই হিসেবে কাজ করে কোরবানির গোশত সংগ্রহ করেছেন।সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর নানা স্থানে বসেছে কোরবানির গোশতের অস্থায়ী হাট। সেখানে টাকার বিনিময়ে যে কেউ কোরবানির গোশত কিনতে পারছেন।জানা যায়, অসহায়, দুস্থ ও অস্থায়ী কসাই হিসেবে কাজ করা অনেকেই কষ্ট করে সংগ্রহ করা গোশতের একটি অংশ বিক্রি করে দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরাসরি গোশত বিক্রি করছেন। রাজধানীর নয়াবাজার, বাবুবাজার, কারওয়ান বাজার এবং কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের গোশতের বাজার দেখা গেছে।বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগ্রহ করা কোরবানির গোশত প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে। পরে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা সেই গোশত বিভিন্ন মান অনুযায়ী সাজিয়ে ৮৫০, ৯০০ এমনকি ১ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করছেন।গোশত বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে প্রাপ্ত গোশতের একটি অংশ গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষ নিজেদের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন। এছাড়া অনেক ব্যাচেলর ও অস্থায়ী কসাই কোরবানির কাজ করে পাওয়া গোশতও বিক্রি করেন। গোশতের মান ও পরিমাণ অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়।অন্যদিকে, যারা কোরবানি দিতে পারেননি কিংবা লজ্জার কারণে কারও কাছে গোশত চাইতে পারেন না, তারাই মূলত এই হাটের ক্রেতা। তারা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে গোশত কিনছেন।একজন ক্রেতা বলেন, “সন্তানের মুখে গোশত তুলে দেওয়ার জন্য এখানে এসেছি। আমরা কোরবানি দিইনি, আবার লজ্জার কারণে কারও কাছে চাইতেও পারিনি। বাজারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও কোরবানির গোশত পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।”কোরবানি দিতে না পারা অনেক পরিবার এই হাট থেকে গোশত কিনে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছে। তবে দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন মানুষও আছেন, যাদের কাছে কোরবানির গোশত পাওয়া তো দূরের কথা, কোরবানির আনন্দই খুব কম পৌঁছায়। তাই অসহায়, দুস্থ, গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কোরবানির গোশত আরও ব্যাপকভাবে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কোরবানির মাংসের হাটে ভিড়, লজ্জায় মুখ ঢেকে কিনছে বিত্তবানরাও!