গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ পাসের ফলে গুমের ঘটনায় বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। নতুন আইনে গুমের স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর তার অবস্থান গোপন করলে, অজ্ঞাত স্থানে রাখলে কিংবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে সেটি গুম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার পরও কাউকে আইনি সহায়তা ছাড়া গোপনে আটকে রাখার বিষয়টিও নতুন আইনের আওতায় আসতে পারে বলে তিনি জানান। আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো গুমের ঘটনা যদি ব্যাপক বা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন বা স্বতন্ত্র গুমের ঘটনাগুলো সংশ্লিষ্ট সাধারণ আদালতে বিচারযোগ্য হবে। নতুন আইনের ৩৩ ধারার ব্যাখ্যা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে আগে থেকেই কোনো গুমের মামলা বিচারাধীন থাকলে সেটির বিচার সেখানেই চলবে। আর সেশন কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো মামলা চলার সময় যদি সেটি ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যাবে। পুলিশি তদন্তের যেকোনো পর্যায়েও এমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে একইভাবে ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ও অন্য আদালতে চলমান এমন মামলাগুলো পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালে বিচারের উদ্যোগ নিতে পারবে। ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ও তদন্তাধীন গুমের অভিযোগগুলোও নতুন আইনের আলোকে পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এর আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে অধ্যাদেশ থাকলেও সেটির কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। ওই ব্যবস্থায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলেও তৎকালীন সময়ে কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারায় গুমের অভিযোগে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি। নতুন আইন সেই জায়গায় বিচারিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করেছে। এদিকে নতুন আইনে গুমের ঘটনায় শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। কোনো গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, লাশ পাওয়া গেলে কিংবা দীর্ঘ সময় পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। সাধারণ গুমের ঘটনায়ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে বিধান থাকলেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এজন্য রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধন করে বিস্তারিত বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।