ঢাকার কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে জামায়াতের প্রস্তাব

দেশের চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলোর কাছে কার্যকর পরিকল্পনা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলের আগের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব সামনে এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাদের দাবি, সংকট মোকাবিলায় তাদের পরিকল্পনা নতুন নয়, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে লিখিতভাবে এসব সুপারিশ দিয়েছে বিরোধীদল। বিগত তিন মাস ধরে সেই পরিকল্পনা সরকারের হাতে রয়েছে।আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসকল প্রস্তাবের কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনটির কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনো বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে সংকট চলছে, সরকারের উচিত জনদুর্ভোগ লাঘবের দিকে মনোযোগ দেওয়া। কিন্তু সরকার প্রধান ‘গুপ্ত’ ’১৭ বছর কোথায় ছিলো’ এসকল কথা বলে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে জনদুর্ভোগ আড়াল করতে চেষ্টা করছে। জনগণ এসকল রাজনৈতিক বিতর্ক এখন আর পছন্দ করে না।সরকারের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে জামায়াতের প্রস্তাব হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করুন। আজ থেকে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিন। কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি, কত গ্যাস বেড়েছে, কত সিস্টেম লস কমেছে, কত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে জনগণ সেই হিসাব দেখুক। এছাড়া, বিরোধীদলের প্রস্তুত করা খসড়ায়ও ৯০ দিন পর অগ্রগতি প্রতিবেদনও সংসদে উপস্থাপন এবং বিরোধী দলের সদস্যসহ বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যালোচনার প্রস্তাব করেছে দলটি।এছাড়া, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চারটি প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমারজেন্সি এনার্জি সের’ গঠন এবং নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদন পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। একই সঙ্গে রূপপুর বেসলোড প্ল্যান্ট কবে উৎপাদনে আসবে ও এর ট্যারিফ কত হবে তা জনগণকে জানানো, জরুরি দরপত্র মূল্যায়নে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পে একক তদারকি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি কোন ফাইল কোথায় কতদিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশের দাবি জানিয়েছে দলটি।জামায়াতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো। এজন্য দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপগুলোতে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করার উদ্যোগ এবং স্থল ও সমুদ্রভাগে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।জামায়াতের মতে, ৯০ দিনের মধ্যে ছয়টি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে অন্তর্বর্তী পরিবহন ব্যবস্থা বাড়ানো, সিস্টেম লস ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিল্প-বিদ্যুৎ-সার-আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহের পূর্বঘোষিত সময়সূচি এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) ও জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ দ্রুত কার্যকর করা। সংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন পরিকল্পনা নয়, প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো ও গ্যাসকূপ দ্রুত কাজে লাগানো জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে জামায়াতের প্রস্তাব