ঢাকার কণ্ঠ

যমুনার ভাঙনে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি মহাসড়ক নদীগর্ভে, যান চলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে যমুনার তীব্র স্রোতে গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় মহাসড়কে ভাঙন শুরু হয়। ভোরের দিকে সড়কের একটি বড় অংশ নদীতে তলিয়ে গেলে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের আরও কয়েকটি অংশ ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। তারা দ্রুত একটি টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।ভাঙনের খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে। তীব্র স্রোতের মধ্যেও শ্রমিকরা মহাসড়ক রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণেরও চেষ্টা চলছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শাখারিয়া এলাকার স্লুইসগেটসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলছে। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থায়ী সংস্কার করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।

যমুনার ভাঙনে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি মহাসড়ক নদীগর্ভে, যান চলাচল বন্ধ