রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে জানা গেছে, তরুণীটি জীবিত ও বর্তমানে সুস্থ আছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তরুণী নিজেই জানান, তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং কেউ তাকে জোর করে পান করায়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে তরুণী জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই মদ্যপান করেন এবং পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন বলে তার দাবি।এর আগে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলটির দৃশ্য নজরে আসে এক প্রত্যক্ষদর্শীর। তার চোখে তরুণীকে অনেকটা নিথর অবস্থায় দেখা যায় এবং পেছনে থাকা একজন তাকে ধরে রেখেছিলেন। এ দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মোটরসাইকেলটির গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করে। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের তথ্যের ভিত্তিতে চালক ও অপর আরোহীকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণীর বোন ও দুলাভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ঝগড়ার পর অভিমান করে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথ পরিবর্তন করে তাকে মিরপুরের একটি বাসায় রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে তারা জানান। তরুণী আরও দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের অনেকটাই সত্য নয়। এসব তথ্যের পেছনে তার সাবেক স্বামীকে দায়ী করেছেন তিনি।এদিকে ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবকটির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। তাই ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কেন তাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ক কী এসব বিষয় এখনো পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও পরিষ্কার হবে।