বরফ গলার কারণে আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের সুযোগ বাড়ায় নতুন বাণিজ্যপথের সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রথমবারের মতো এই রুটে ইউরোপের উদ্দেশে কনটেইনার জাহাজ পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার (২২ আগস্ট) দেশটির বুসান বন্দর থেকে ‘প্যানস্টার অ্যাক্রো’ জাহাজটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে। ২ হাজার ৭৫৮ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষে নর্দার্ন সি রুট বা উত্তর-পূর্ব সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ইউরোপে যাবে। পথে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সটো, নেদারল্যান্ডসের রটারডাম ও পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে থামার কথা রয়েছে। পুরো যাত্রা শেষ করে জাহাজটির প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে বুসানে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, আর্কটিকের এই পথ নিয়মিত বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহার করা কতটা বাস্তবসম্মত তা পরীক্ষা করা। দেশটির হিসাব অনুযায়ী, বুসান থেকে রটারডাম পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব সমুদ্রপথে দূরত্ব প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার। একই যাত্রায় সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে দূরত্ব প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার অর্থাৎ নতুন রুটে প্রায় ৩৫ শতাংশ পথ কমতে পারে। পরীক্ষামূলক যাত্রায় প্যানস্টার অ্যাক্রোতে মোট ৮৩৭ টিইইউ পণ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পণ্য, ব্যবহৃত গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য রয়েছে। জাহাজটির মোট ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৭৫৮ টিইইউ। দক্ষিণ কোরিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে আর্কটিক সমুদ্রপথকে নিয়মিত বাণিজ্যিক রুট হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখছে। সফল হলে বুসানকে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নতুন নৌবাণিজ্যিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই পথে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আর্কটিকের বরফ, আবহাওয়া, নৌ-নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং পরিচালন ব্যয় এখনো বড় বাধা। পাশাপাশি নর্দার্ন সি রুটের বড় অংশ রাশিয়ার জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় ভূরাজনৈতিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হচ্ছে। আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল অবশ্য ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন, সমুদ্রপথে জাহাজের সংখ্যা বাড়লে দূষণ ও নিঃসরণ বাড়তে পারে, যা আর্কটিকের পরিবেশের ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।