সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে রয়েছে। আইনি যাচাই শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে শুধু মূল বেতন নির্ধারণই নয়, বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধিবদ্ধ আদেশ জারির প্রস্তুতিও চলছে। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একবারে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়নে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য হালনাগাদ করে আইবাস++-এর মাধ্যমে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে পদ, গ্রেড, বর্তমান বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতিসহ প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন হিসাব করার ব্যবস্থা থাকবে। সরকারের অনুমোদন অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবে নতুন বেতন নির্ধারণ ও অন্যান্য সুবিধা চালুর জন্য প্রজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আদেশ জারি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে প্রজ্ঞাপন নিয়ে এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর জারির কথা বলা হলেও সেটি হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খসড়া এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পথ খুলবে।