ঢাকার কণ্ঠ

কেরানীগঞ্জে বিএনপির নামে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ওসিকে কঠোর নির্দেশ: নিপুণ রায়

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির কোন নেতাকর্মী যদি কোন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত থাকে তাকে সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনা হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সর্বাত্মক অনুরোধ জানান তিনি। বুধবার (৬ মে) বিকেলে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু-গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব মন্তব্য করেন।নিপুণ রায় বলেন, যে পক্ষ চাদাবাজি করার উদ্দেশ্যে এখানে দখলদারিত্ব করতে আসে তাদের বিষয়ে আমি ওসি সাহেবকে বলেছি এবং সেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি দেখবেন। আমার দলের কোন নেতাকর্মী (বিএনপি) যদি কোন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত থাকে তাকে সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক অনুরোধ জানাচ্ছি। ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আমি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে। অপরাধীদের বিষয়ে সে যেই হোক না কেন, তার হাত যতই বড় হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। কেরানীগঞ্জে কোন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের স্থান থাকবে না। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মামলা করে রিফাত মোল্লাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।সারাদেশে অস্ত্রধারী-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনীয় অভিযানে কথা উল্লেখ করেন এই নেত্রী বলেন, আপনারা দেখছেন যে, সারা দেশব্যাপী চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনাদের নির্দেশনা রয়েছে, বিএনপির পরিচয়ে কেউ অপরাধ করে আসলে তাকে সহযোগিতা করবেন না। শুধুমাত্র আইনানুগ হলেও তাকে সহযোগিতা পাবে। তিনি আরও বলেন, চার মাস আগেই বলেছি যে এখানে দুই পক্ষ কাউন্টার নিয়ে তারা ঝামেলা করছে। কোন পক্ষ যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ না আনতে পারে এবং যারা এর সাথে জড়িত অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করতে হবে। রিফাত মোল্লার নাম উল্লেখ করে নিপুণ রায় বলেন, পুলিশকে অনেক আগে বলেছি তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চাঁদা বন্ধ করার জন্য। রিফাত মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা কর্মীর উপর হামলা চালিয়েছে। রিফাত মোল্লা বিএনপির কেউ নয়।অন্যদিকে রিফাত মোল্লা জানান, আমার লোকজনের উপর হামলা করেছেন চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে আমার উপর হামলা চালায় বিএনপির নামধারী লোকজন। আমার উপর হামলার নেপথ্যে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতার হাত রয়েছে। নিপুন রায় চৌধুরী এমপি তার পক্ষ নিয়ে পুলিশকে চাপসৃষ্টি করছেন। আমার বাবা মরহুম লুৎফর রহমান মোল্লা চেয়ারম্যান আজীবন বিএনপি করেছেন। আমি বিএনপির পরিবার হওয়াতে একাধিক মামলায় জেল খেটেছি। আজ আমাকে বলে আমি বিএনপির কেউ নয়। সে বিএনপির কিনা সেটা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ড নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। বিকেলে রিফাত মোল্লার লোকজনের উপর হামলা চালায় একটি গ্রুপ। এই ঘটনায় রিফাত মোল্লা থানায় অভিযোগ করতে আসলে তার উপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরে। সেখানে ৪-৫ টি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে।  তবে কোন পক্ষ বোমা বিস্ফোরণ করেছে সেই বিষয়ে বলতে পারছি না। এদিকে, কেরানীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি দু'গ্রুপের সংঘর্ষ ৮জন আহত  হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ৪-৫টি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। তবে কোন পক্ষের লোকজন বোমা বিস্ফোরণ করেছে সেই বিষয়ে বলতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৭-৮জন গুরুতর আহত হয়। আহতরা হচ্ছেন, মো.মালেক গাজী (৫৩), মো. শাহীন মিয়া(৩৪), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), মাহমুদ হাসান(২৭)। শাহীন মিয়ার পিছনে ছুরিকাহত হলে কেরানীগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাজ্জাদ হোসেনের চোখে আঘাত লেগেছে। 

কেরানীগঞ্জে বিএনপির নামে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ওসিকে কঠোর নির্দেশ: নিপুণ রায়