নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা রাজধানীর ‘পিংক বাস’ সেবায় প্রত্যাশিত যাত্রী না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গত ১৮ আগস্ট চালুর পর থেকে এ সেবায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমিত রুট, কম প্রচার এবং যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সময়সূচির সামঞ্জস্য না থাকায় পিংক বাসে পর্যাপ্ত যাত্রী মিলছে না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাসের আসন ফাঁকা থাকছে।নারীদের জন্য বিশেষায়িত এই বাস সেবায় যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ট্রিপের সংখ্যা কম। বর্তমানে সকালে ও বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে বাস চলাচল করায় অনেক নারী প্রয়োজনের সময় সেবাটি ব্যবহার করতে পারেন না। নির্ধারিত বাস মিস করলে তাঁদের অন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়।পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সেবা চালুর আগে যাত্রীদের যাতায়াতের ধরন, সম্ভাব্য চাহিদা, রুট এবং সময়সূচি নিয়ে পর্যাপ্ত মাঠপর্যায়ের গবেষণা করা প্রয়োজন ছিল। পরিকল্পনার ঘাটতি ও প্রচারের অভাব যাত্রীসংখ্যা কম থাকার অন্যতম কারণ হতে পারে।এদিকে, পিংক বাস সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকার ইলেকট্রিক বাস চালু করলে পিংক বাসের বহরেও বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাটির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।বর্তমানে রাজধানীতে ১০টি পিংক বাস চলাচল করছে। নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এই সেবা কার্যকর করতে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী রুট, ট্রিপ ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।