কক্সবাজারে প্যারাসাইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তাব্যবস্থা, বৈধতা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ২৩ জুন ঢাকার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণভাবে কার্যক্রম চালু রাখার অভিযোগের মধ্যেই প্যারাসাইলিং করার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম থেকে ছিটকে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায় (৩১) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7323]শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকার সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অক্ষর শৌভিক রায় খুলনা জেলা সদরের বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শেখর রায়। তিনি নয় সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসাইলিং করছিলেন শৌভিক রায়। আকাশে ওড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ তিনি নিরাপত্তা সরঞ্জাম থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিংয়ের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর প্যারাসাইলিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত নিরাপত্তা সরঞ্জামের মান, প্রশিক্ষিত জনবল, উদ্ধারব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে প্যারাসাইলিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করছে না। কলাতলী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকার পাঁচটি প্যারাসাইলিং প্রতিষ্ঠানের অনুমতির মেয়াদ গত জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন তারা।তবে অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।জুনেই ঝুঁকির কথা জানিয়েছিল ঢাকার কণ্ঠগত ২৩ জুন ‘কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং ঘিরে ফরিদ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে ঢাকার কণ্ঠে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় পরিচালিত প্যারাসাইলিং কার্যক্রমের নিরাপত্তাব্যবস্থা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিম্নমানের সরঞ্জাম, কার্যকর রেসকিউ বোটের অভাব এবং অনুমোদনের বৈধতা নিয়ে স্থানীয় ও পর্যটকদের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, প্যারাসাইলিং করার সময় ইঞ্জিন বিকল হওয়া, দড়ি ছিঁড়ে যাওয়া এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকদের সমুদ্র বা ঝাউবনে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে নিরাপত্তা যাচাই ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির দাবিও জানানো হয়েছিল।কক্সবাজারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তখন প্যারাসাইলিংয়ের সরঞ্জাম ও কার্যক্রম এয়ারফোর্স, নৌবাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত কর্মী, কার্যকর উদ্ধারকারী নৌযান, মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, নির্ধারিত মূল্য তালিকা এবং পর্যটকদের বিমার আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সতর্কতা ও সংবাদ প্রকাশের পরও প্যারাসাইলিং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে শনিবারের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।